kalerkantho


রকিবউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের বিদায় আজ

যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি : বিদায়ী সিইসি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি : বিদায়ী সিইসি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে গতকাল বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করেন বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনাররা। ছবি : পিআইডি

বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তিনি ও তাঁর অধীন নির্বাচন কমিশনাররা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের দিন গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আজ বুধবার শেষ হচ্ছে। বিদায় উপলক্ষে আজ দুপুর আড়াইটায় ইসি সচিবালয় থেকে তাদের বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে বিদায়ী বক্তব্য দেবেন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

গতকাল বিকেলে বিদায়ী সিইসি, অন্য কমিশনার ও কমিশন সচিবসহ ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করে। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব জয়নাল আবেদিন সাংবাদিকদের তথ্য দেন।

এর আগে গতকাল সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিদায়ী সিইসি ও অন্য কমিশনাররা।

বাসস জানায়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে সিইসি বলেন, ‘যখন আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের। সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা তা করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ’

বিদায়ী নির্বাচন কমিশন সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, তাঁদের মেয়াদকালে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিইসি তাঁদের মেয়াদকালে সাবলীলভাবে সব নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করার জন্য রাষ্ট্রপতি ও জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানান।

বিদায়ী নির্বাচন কমিশনের মেয়াদকালে সময়োপযোগী নির্দেশনা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কাজ করতে তাঁদের উৎসাহিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনাররা রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য বিদায়ী নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন ছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগণের সহযোগিতা আবশ্যক।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে সিইসি ছাড়াও চার নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মো. শাহ নেওয়াজ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের সাভারের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, এর আগে গতকাল সকাল ১১টার দিকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিদায়ী সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজেদের এবং নতুন নিয়োগ পাওয়া ইসি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নতুন যাঁরা এসেছেন, তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এসেছেন। এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব। দেশের দায়িত্ব, রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরাও এটা অন্তর থেকে পালন করে এসেছি। আমাদের আশা রয়েছে, আস্থা রয়েছে, তাঁরাও যোগ্যতার সাথেই দায়িত্ব পালন করবেন। ’

এর আগে বিদায়ী সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসার পর তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ মিজান শাফিউর রহমান ও নির্বাচন কমিশনার শাহ আলম।

রকিবউদ্দীন স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে তিনি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মো. শাহ নেওয়াজ, মোহাম্মদ আবু হাফিজ প্রমুখ।


মন্তব্য