kalerkantho


মাওয়া প্রান্তে শুরু হচ্ছে পাইল বসানোর কাজ

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মাওয়া প্রান্তে শুরু হচ্ছে পাইল বসানোর কাজ

প্রমত্তা পদ্মা নদী এখন বেশ শান্ত। স্রোতের তীব্রতা কমে এসেছে অনেকটাই। শুকনো মৌসুমের এই সুবিধা কাজে লাগাতে পুরোদমে চলছে পদ্মা সেতুর পাইলিংয়ের কাজ। দীর্ঘ বিরতি শেষে মাওয়া প্রান্তে দ্রুতই শুরু হচ্ছে পাইল বসানোর কাজ। গতি এসেছে নদীশাসন কাজেও। চলতি মাসেই কাজ তদারকিতে যোগ দিচ্ছেন কয়েকটি দেশের বিশেষজ্ঞরা।

পদ্মা সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে দুটির পাইলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুই প্রান্তের দুই পিলারের পাইল বাড়ানো হয়েছে। ১২টির স্থলে এখন পাইল হবে ১৬টি। সেতুর সর্বশেষ পিলার (৪২ নম্বর) জাজিরা প্রান্তে। এই ট্রানজিট পিলারে ইতিমধ্যে তিনটি পাইল স্থাপন করা হয়েছে।

লোড পরীক্ষার পর বাকি ১৩টি পাইল স্থাপন হবে। মাওয়া প্রান্তে ১ নম্বর ট্রানজিট পিলারটিতেও ১৬টি পাইল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সেতুর ভায়াডাক্টের (সংযোগ সেতু) কাজও এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে। জাজিরা প্রান্তে ভায়াডাক্টের ৪৬টি পাইল স্থাপন হয়ে গেছে। এই প্রান্তে ভায়াডাক্টের ১৯৩টি পাইল স্থাপন হবে। বাস্তবতার নিরিখে সেতুটিকে মজবুত রাখতেই বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। পাইলের গভীরতাও বাড়ানো হয়েছে।   প্রায় ১১৫ মিটারের পরিবর্তে পাইলগুলো ১২৮ মিটার গভীর করা হচ্ছে।

এদিকে মাওয়া প্রান্তে ভায়াডাক্টে টেস্ট পাইলে রিডিং ভুলের কারণে নতুন করে আরেকটি টেস্ট পাইল করা হচ্ছে। এটির লোড পরীক্ষার পরই মাওয়া প্রান্তে ভায়াডাক্টের কাজ শুরু হবে।

মূল সেতুর কাজে বাড়তি গতি আনতে চলতি মাসেই প্রকল্প কাজে যোগ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও হংকংয়ের তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি এই বিশেষজ্ঞদের ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে পিছিয়ে পড়া কাজের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে তাঁরা পরামর্শ দেবেন।

এখন মাওয়া প্রান্তে পাইল স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। আজ বুধবার পাইল ড্রাইভ শুরুর কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। এক সপ্তাহের মধ্যে মাওয়া প্রান্তে পাইল ড্রাইভ শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মূল পদ্মা সেতুর পিলার ৪২টি। দুই তীরের দুটি পিলার বাদে পদ্মার বুকে ৪০টি পিলার হবে একই রকম। একেকটি পিলারে ছয়টি করে মোট ২৪০টি পাইল মাটিতে বসানো হবে। এখন পর্যন্ত জাজিরার ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে ছয়টি করে পাইল বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। দুই প্রান্ত মিলিয়ে মোট ৩৯টি পাইলের নিচের অংশ এবং ১৫টি পাইলের পুরো অংশই মাটিতে বসানো হয়েছে। একসঙ্গে চলছে ১১টি পিলারের কাজ। নতুন করে মাওয়া প্রান্তে কাজ শুরুর জন্য মঞ্চ তৈরি করে যন্ত্রপাতির সমাবেশ ঘটানো হয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই মূল সেতুর কাজ ৪৩.৮৮ শতাংশ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেখানে কাজ হয়েছে ৩৮.৪৮ শতাংশ। তবে আগামী বর্ষার আগে কাজ বেশ এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত ৩১ জানুয়ারি পদ্মা সেতুর নিয়মিত পাক্ষিক সভায় প্রকল্পটির নানা বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের দোগাছির সার্ভিস এরিয়া-১ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভাটিতে সেতু নির্মাণকাজের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মুকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

লৌহজংয়ে মাওয়ার কুমারভোগ ওয়ার্কশপে সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা সেতুর হরেক রকম কাজ চলছে সেখানে। পাইলের টিউব তৈরি ছাড়াও জোরেশোরে চলছে স্প্যান ফিটিংয়ের কাজ। চীন থেকে আসা স্প্যানের অংশগুলো সরাসরি ঝালাই করে জোড়া লাগানো হচ্ছে। ফিটিং করা প্রথম স্প্যানটি লোড টেস্ট করার পর ওয়ার্কশপেই রাখা হয়েছে। চীনেও চলছে স্প্যান তৈরির কাজ।


মন্তব্য