kalerkantho


সংসদে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সংসদে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বিল পাস

দারিদ্র্য বিমোচনে আরো সুসংগঠিতভাবে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমিকে পরিচালনার লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদে একটি বিল পাস হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বিল-২০১৭’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে সামরিক শাসনামলে জারিকৃত অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে গেলে এসংক্রান্ত আইনটিও রহিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আইনি শূন্যতা দূর করতে এ বিলটি আনা হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কৃষির আধুনিকীকরণসহ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অনেক মডেল সৃষ্টি করেছে। দেশে-বিদেশে অধিকতর সমাদৃত হয়েছে। জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর আইনি কাঠামো আরো শক্তিশালীকরণ প্রয়োজন। এ জন্য আইনের খসড়া বিলটি গত এপ্রিল মাসের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিলে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা জড়িত থাকায় সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ মোতাবেক রাষ্ট্রপতির সুপারিশ পাওয়া গেছে।

বিলে বলা হয়, একাডেমি পরিচালনার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে ও মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিবকে ভাইস চেয়ারম্যান করে ১৭ সদস্যের একটি পরিচালনা বোর্ড থাকবে। একাডেমির মহাপরিচালক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একাডেমি পল্লী উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে গবেষণা, পল্লী উন্নয়নকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে, পল্লী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে সরকারকে সহায়তা প্রদান করবে। একাডেমি তার দায়িত্ব ও কাজ সম্পাদনের জন্য নির্ধারিত শর্তে ঋণ নিতে পারবে। একাডেমির একটি তহবিল থাকবে। তহবিলে সরকারের অনুদানসহ দেশি-বিদেশি সরকার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান ও ঋণ নেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় আওতাধীন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীনের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন তথা পল্লীর দারিদ্র্য বিমোচনে নিরলস সহায়তা করে যাচ্ছে। তৎকালীন সরকার ‘পাকিস্তান গ্রাম উন্নয়ন একাডেমী’ নামে এটি প্রতিষ্ঠিত করলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান নামে করা হয়।


মন্তব্য