kalerkantho


খাল উদ্ধারকাজ শুরু

দুটি মার্কেটের দোকানসহ ২০০ স্থাপনা উচ্ছেদ

সব খাল দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে : মেয়র খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পূর্বঘোষণার অংশ হিসেবে রাজধানীর নন্দীপাড়ার ত্রিমোহনী খাল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।   কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে দুটি পাকা মার্কেটের দেড় শ দোকানসহ প্রায় ২০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল সোমবার ডিএসসিসি মেয়র ও ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) উপস্থিতিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানকে সঙ্গে নিয়ে নন্দীপাড়া ব্রিজে উপস্থিত হন। সেখানে ডিএসসিসি ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ উপস্থিত স্থানীয় জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেন মেয়র। এর পরই ১২ টা ৫০ মিনিটে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়। এ সময়  জনতা উচ্ছেদের পক্ষে মিছিল করে।

গতকাল দুপুরে শুরুতেই নন্দীপাড়া ব্রিজের ওপর থেকে ত্রিমোহনী পর্যন্ত ডিএসসিসি উচ্ছেদ শুরু করে। ডিএসসিসির বিশাল আকৃতির তিনটি বুলডোজার দিয়ে একসঙ্গে অবৈধ স্থাপনা একের পর এক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পুরো খাল দখল করে এই স্থাপনাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বসিয়েছে দখলদাররা। তাদের কেউ কেউ দখলের পক্ষে ঢাকার জেলা পরিষদের ইজারা থাকার প্রমাণপত্র নিয়ে হাজির হয়।

কিন্তু ঢাকা ওয়াসার এমডি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এ জমি খালের নামে ঢাকা ওয়াসাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর মেয়র সাঈদ খোকন ছোট-বড় সব স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ উচ্ছেদ অভিযানে দুই শতাধিক স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নন্দীপাড়া ব্রিজ থেকে একটু সামনে বিশাল আকৃতির দুটি পাকা মার্কেট এবং এগুলোতে প্রায় ১৫০টির মতো দোকানপাট রয়েছে। পাকা এই স্থাপনায় থাকা দেড় শ দোকানেই ‘ঢাকা জেলা পরিষদ মার্কেট’ বলে উল্লেখ রয়েছে। এসব দোকানে ছিল জুয়েলারি, তৈরি পোশাক, মোবাইল ফোন, স্টেশনারি, ফার্মেসি, ডেন্টাল চেম্বারসহ নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। পূর্বঘোষণা থাকলেও এসব দোকানে থাকা মালামালও সরিয়ে নেওয়া হয়নি। গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালত অল্প কিছু সময় দিয়ে এসব দোকানপাট গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এ সময় দৌড়ঝাঁপ করে দোকানিদের মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

উদ্ধার অভিযান শুরু করার আগে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, নন্দীপাড়ার এ খাল উদ্ধারের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার খাল উদ্ধার অভিযান শুরু হলো। যেখানেই অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সরকার কিংবা জনগণের সম্পত্তির অবৈধ দখল রয়েছে সেখানেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। ঢাকা শহরে কোনো প্রকার মাস্তানি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চলবে না। যেখানে প্রতিবন্ধকতা আসবে সেখানেই জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে। এ সময় বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা খালে না ফেলতে তিনি নগরবাসীর দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

অভিযানে ডিএসসিরি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শহিদুল ইসলাম, ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খান মোহাম্মদ নাজমুস শোয়েব ও ডেমরা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল মালেকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য