kalerkantho


আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলা

মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে মুফতি হান্নানকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে মুফতি হান্নানকে

সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় ফাঁসির দণ্ড পাওয়া হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের মৃত্যু পরোয়ানা কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে। তিন দিন আগে তাঁকে এই পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কারা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজনস) তৌহিদুল ইসলাম।

গতকাল সোমবার রাতে ডিআইজি (প্রিজনস) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গির মৃত্যু পরোয়ানা আমরা হাতে পেয়েছি। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াগুলো শেষ করে দণ্ড কার্যকর করা হবে। ’

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলাসহ তিনজনকে হত্যার দায়ে গত ৭ ডিসেম্বর মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য দুই আসামি হলেন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) সদস্য শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে গ্রেনেড হামলায় আনোয়ার চৌধুরীসহ অনেকে আহত হন। নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই মুফতি হান্নানসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সম্পূরক চার্জশিটে আরেক জঙ্গি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালের নাম যোগ করা হয়।

২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ও দেলোয়ার হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আসামিরা আপিল করলে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট রায়ে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। সর্বশেষ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসহ হুজির ১৩টি নাশকতামূলক ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার পেছনের মূল ব্যক্তি হিসেবে নাম উঠে আসে মুফতি হান্নানের।


মন্তব্য