kalerkantho


আজ বাংলা ইশারা ভাষা দিবস

বাক্হারারা দয়া নয় কাজ চায়

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাক্হারারা দয়া নয় কাজ চায়

ইশারা ভাষা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আজ ৭ ফেব্রুয়ারি। বাংলা ইশারা ভাষা দিবস।

প্রতিবছরই শহরের আজাদী ময়দানে অবস্থিত ‘রাজবাড়ী জেলা বধির উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক সংস্থা’ দিবসটি পালন করে। সংস্থার বাক্প্রতিবন্ধী (বধির) সদস্যরা শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে কেউ আর তাদের খোঁজখবর নেন না। প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয় না। ফলে অবস্থা পাল্টায় না বাক্প্রতিবন্ধীদের।

গতকাল সোমবার সকালে রাজবাড়ী জেলা বধির উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, তাদের প্রধান সমস্যা তারা কথা বলতে পারে না ও কানে শোনে না। এছাড়া তাদের সব কিছুই অন্য মানুষের মতো স্বাভাবিক। অন্য সব মানুষের মতোই তারা।

কিন্তু তারা সমাজের মানুষের কাছে গিয়ে কাজ চেয়ে পায় না। পরিবারের সদস্যরাও তাদের বোঝা ভাবে। কেউ কেউ দয়া দেখায়। কিন্তু তারা দয়া চায় না, কাজ চায়। কর্মসংস্থান চায়।

সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বাক্প্রতিবন্ধী আব্দুল আলিম মনি বলেন, তাঁরা ইশারা ভাষার মাধ্যমে কথা বলেন। একে অন্যের সঙ্গে ভাববিনিময় করেন। প্রয়োজন সম্পর্কে জানান। অথচ সমাজপতিরা বাক্প্রতিন্ধীদের ভাষা বুঝতে না পেরে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন। তাঁরা ভাবেন, বাক্প্রতিবন্ধীরা ভিক্ষা আনতে গেছে।

মনি বলেন, প্রতিবছরই তাঁরা বাংলা ইশারা ভাষা দিবস পালন করেন। তাঁদের অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অতিথিরা নামমাত্র উপহারসামগ্রী দেন এবং আশ্বাসের বুলি আওড়ান। তাঁদের সংস্থার ব্যানারে পাঁচ বছর ধরে দিবসটি পালন করছেন তাঁরা। অথচ তাঁদের অবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি। সংস্থার কার্যালয়ে বধিরদের সুযোগ-সুবিধাও বাড়েনি। তাঁদের সদস্যসংখ্যা ২০ থেকে ৯১-এ এসে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, বধিরদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ভিজিডি কার্ড, ছাগল ও গরু পালন, রিকশা, সেলাই মেশিনসহ যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে আয় হয়, সেসব বিষয়ে ভাবতে হবে। এতে তাঁরা সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে অংশীদার হতে পারবেন।

সংস্থার সাবেক সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি হিসাবরক্ষক জিয়াউল হক জানান, তিনি রাজবাড়ী জেলা বধির উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক সংস্থার শুরু থেকে ছয় মাস আগে পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এখনো তিনি সংস্থার সদস্যদের উন্নয়নের কোনো কাজে যদি আসতে পারেন সেই কাজ করেন। তিনি বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিবছরই বাংলা ইশারা ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে এসেছেন। অথচ তাঁরা তাঁদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রাখতে পারেননি। মাত্র একজন বধিরের ভাতার ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। আর কোনো বাক্প্রতিবন্ধীর উপকারে আসে—এমন কাজ তাঁরা করেননি।

জিয়াউল বলেন, বধিররা কখনো ভিক্ষা করতে চায় না। পরিবারের বোঝা হতে চায় না। তারা কাজ করতে ভালোবাসে। তাদের উন্নতির জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান। অথবা তাদের আয়বর্ধক এমন কিছু দেওয়া দরকার, যা লালনপালন বা খাটিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারে। তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি নয়, বধিরদের উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

রাজবাড়ী জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক বুবাইয়াত মো. ফেরদৌস জানান, তাঁরা সাধারণত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কাজ করেন। তাদের ভাতাসহ ঋণ দেওয়া কার্যক্রম পরিচালনা করেন। জেলায় ১২ হাজার ৮৬৭ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে। এর মধ্যে ৭৭৬ জন বাক্প্রতিবন্ধী ও ২২৪ জন শ্রবণপ্রতিবন্ধী।


মন্তব্য