kalerkantho


অপবাদ দিয়ে শিক্ষককে দিনভর নির্যাতন সন্ত্রাসীদের

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে এক শিক্ষককে অপবাদ দিয়ে দিনভর আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ওই শিক্ষকের নাম বিধান চন্দ্র সরকার। তিনি মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। গত শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত তাঁকে আটকে রাখা হয়। এরপর সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয় হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এবং প্রায় দুই ডজন মামলার আসামি নয়ন গাজীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ওই শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করেছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে এসে শিক্ষক বিধান চন্দ্র সরকার বরিশালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক বিধান চন্দ্র সরকারের বাড়ি সাতক্ষীরায়। ‘এনটিআরসি’র মাধ্যমে সরকারিভাবে গত ২৪ নভেম্বর ওই বিদ্যালয়ে বিপিএড শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এরপর স্কুলের পাশে একটি বাড়ির একটি ঘর নিয়ে একা বসবাস করেন তিনি।

এলাকায় তিনি ভালো শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে গত শুক্রবার বিকেলে এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে সন্ত্রাসী নয়ন গাজীর নেতৃত্বে নাসির গাজীসহ চার-পাঁচজন শিক্ষক বিধানকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে ফেলে রাখে। একপর্যায় সন্ত্রাসীরা ওই শিক্ষককে পাশের হরি মন্দিরে নিয়ে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন করতে থাকে। পরের দিন দুপুরে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মৌলভী খলিলুর রহমানসহ অন্য শিক্ষকরা নয়নের ইচ্ছায় লেখা একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর দিয়ে বিধানকে উদ্ধার করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, টাকা-পয়সা ছাড়া সরকারিভাবে স্বচ্ছ নিয়োগ পেয়েছেন বলে ওই শিক্ষকের কাছে বিভিন্ন সময় টাকার জন্য চাপ দিত সন্ত্রাসী নয়ন।

বিষয়টি প্রশাসনকে জানাননি কেন—জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মৌলভী খলিলুর রহমান বলেন, ‘জায়গাটা খুব খারাপ, তাই আমি কিছু বলতে পারব না। ’ 

এ ব্যাপারে নয়ন গাজী প্রথমে শিক্ষককে আটক রাখার কথা অস্বীকার করেন। পরে সামান্য মারধর করার কথা স্বীকার করেন।

গতকাল সকালে থানার ওসি মুনিরুল ইসলামকে সাংবাদিকরা বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ‘নয়ন গাজী ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। ’


মন্তব্য