kalerkantho


নাফে মিয়ানমারের বিজিপির গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নাফ নদে মাছ ধরার সময় মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গুলিতে বাংলাদেশি এক জেলে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো একজন। গতকাল সোমবার সকালে নাজিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি হলেন টেকনাফ পৌর এলাকার চৌধুরীপাড়ার কবির আহমদের ছেলে নুরুল আমিন (২৬)। আর আহত মোর্তজা (২৪) একই এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে। তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অক্ষত থাকা জেলে হাকিম আলীর ভাষ্য, সকাল ৬টার দিকে নুরুল ও মোর্তজার সঙ্গে তিনি একটি  নৌকায় করে নাফ নদে মাছ ধরতে যান। বাংলাদেশ জলসীমার নাজিরপাড়া এলাকায় বিহিঙ্গি জাল পাতেন তাঁরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের কয়েকজন সদস্য একটি স্পিডবোটে করে বাংলাদেশ জলসীমানায় ঢুকে পড়ে। তারা হঠাৎ করেই মাছধরা নৌকা লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছোড়ে। এতে নুরুল ও মোর্তজা গুলিবিদ্ধ হন।

তিনি নৌকায় শুয়ে পড়ে কোনো রকমে প্রাণ বাঁচান।

হাকিম জানান, গুলিবিদ্ধ দুজনকে টেকনাফে নিয়ে আসেন তিনি। খবর পেয়ে টেকনাফ সদর সীমান্ত ফাঁড়ির বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জওয়ানরা তাঁদের টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিত্সক শোভন দাশ জানান, গুলিবদ্ধদের দেখে মনে হয়েছে খুব কাছ থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। ডা. শোভন বলেন, নুরুলের বুকে একটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। মোর্তজার পিঠে কয়েকটি গুলি লেগেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিত্সার জন্য তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু জার আল জাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, বিজিপির সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশি জেলেরা সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। থামার সংকেত দিলে জেলেরা তা অমান্য করে, সে কারণে বিজিপি গুলি করেছে।

বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু এভাবে গুলি করা সীমান্তচুক্তির পরিপন্থী। বিজিপি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করায় এর প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. আব্দুল মজিদ বলেন, নুরুল আমিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সাবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।


মন্তব্য