kalerkantho


নতুন ইসিকে সহযোগিতা প্রসঙ্গ

সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে বিবেচনা করবে ইইউ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠিত হওয়ার পর একে শক্তিশালীকরণে সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে তা বিবেচনা করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বাংলাদেশে ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদোন গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকায় তাঁর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশনের প্রতি ইইউয়ের সহযোগিতা কমেছে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণে ইইউয়ের সহযোগিতার কোনো প্রকল্প নেই।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইইউ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের বেশ পুরনো অংশীদার। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা নতুন নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে জানতে পারব। ’ নতুন যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হচ্ছে তার প্রতি ইইউয়ের সম্ভাব্য সহযোগিতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মায়াদোন বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়ার পর কমিশনকেই আলোচনা করে ঠিক করতে হবে যে তাদের ইইউ, দাতা অংশীদার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা নেওয়ার প্রয়োজন হবে কি না। তিনি বলেন, ‘যদি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকে, তবে অবশ্যই আমরা তা বিবেচনা করব। ’

রোহিঙ্গা ইস্যু : মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নোয়াখালীর হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তরের ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা বিষয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, উদ্যোগটি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তিনি বলেন, ‘তাই আমরা এটি বাস্তবায়নের উপায় ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরো জানতে অত্যন্ত আগ্রহী। ’ উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত রবিবার বিকেলে ঢাকায় কূটনীতিকদের ব্রিফ করে রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তর এবং সেখানে অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চান।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সহযোগিতার অনুরোধ করা হলে অবশ্যই আমরা তা বিবেচনা করব। এ মুহূর্তে অনুরোধে সাড়া দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য আমাদের কাছে নেই। ’ তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানোর কোনো সুযোগ ইইউ হাতছাড়া করবে না এবং তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা দেওয়া অব্যাহত রাখবে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ইইউ সব সময় মিয়ানমারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আসছে এবং ইইউ তা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সব অংশীদারের সঙ্গে আমরা ধারাবাহিক আলোচনায় স্পষ্ট করার চেষ্টা করছি যে সেখানে যা হচ্ছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ’ অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।

নাগরিক সমাজ : এ দেশের নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের চমত্কার অগ্রগতি বিবেচনা করলে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর (সিএসও) ভূমিকার প্রশংসা করতে হবে। ’ বৈদেশিক অনুদান আইনে মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ বিধানে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন আইন ও এর বিধান ‘এনজিও ও সিএসওর মধ্যে আরো ভালো আলোচনা, দায়বদ্ধতা ও প্রচারে সহায়ক’ হওয়া নিশ্চিত করতে তাঁরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও আলোচনা অব্যাহত রাখবেন। তিনি বলেন, এসংক্রান্ত আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। নতুন আইনের কারণে এনজিও ও সিএসও খাতে নেতিবাচক প্রভাব যাতে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে চান। রাষ্ট্রদূত মায়াদোন বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারির ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ এনজিওবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবেই থাকবে। ’

উন্নয়ন সহযোগিতা : ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, জনগণ, টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও নাগরিক সমাজের ক্ষমতায়নের মতো কয়েকটি বিষয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে ইইউ বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগিতা আরো বাড়াবে। তিনি বলেন, ইইউয়ের উন্নয়ন সহযোগিতার অন্যতম মুখ্য উদ্দেশ্য নাগরিক সমাজকে শক্তিশালী করা।   রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, টেকসই প্রবৃদ্ধিকে উত্সাহিত করতে ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ কোটি ইউরো সমপরিমাণ ইইউয়ের উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও বাংলাদেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।


মন্তব্য