kalerkantho


কলকাতা বইমেলা

তিস্তা চুক্তিতে উদার হতে মমতাকে অনুরোধ নূরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এবার তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে উদার ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানালেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতা বইমেলা বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে নূর আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক বেশ কিছু চুক্তির মাধ্যমে নতুন একটি দিক উন্মোচিত হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে অনেক অমীমাংসিত বিষয় সমাধান হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এখনো তাকিয়ে আছে তিস্তার পানির সমস্যা সমাধানের দিকে। ’

সংস্কৃতিমন্ত্রী মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের একজন পরম বন্ধু হিসেবে তাঁর উদারতা ও বন্ধুত্বে নিশ্চয় অচিরে তিস্তা সমস্যাটিরও সমাধান করা সম্ভব হবে।

একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে পশ্চিমবঙ্গের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ব্রাত্য বসু দুই দেশের সম্পর্কের কথা বললেও তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। পশ্চিমবঙ্গের ওই মন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্ত থাকলেও ভাষা ও ঐতিহ্যের কারণে আজও আমাদের মধ্যে চিন্তায় কোনো বাধা হয় না। আমরা পরস্পরের বন্ধু-আত্মীয়স্বজন হিসেবে আছি। ’

ব্রাত্য বসু দুই বছর আগে একুশে ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢাকা সফরের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আমার ঢাকা যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তখন আমি নিজেই দেখেছি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কতটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। ’

এদিন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার জকি আহাদ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পশ্চিমবঙ্গ পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আকতারী মমতাজ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। কলকাতায় বাংলাদেশ দিবসকে এদিন বাংলাদেশের কবিতার জন্য উৎসর্গ করা হয়। ‘বাংলাদেশের কবিতা’ শীর্ষক সেমিনারের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রখ্যাত কবি আসাদ চৌধুরী এবং আলোচনা করেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, আধ্যাপক বেগম আকতার কামাল ও কবি আলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত।

এদিন অনুষ্ঠানের শেষ অংশে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সুবীর নন্দী, ফরিদা বেগম এবং শাহনাজ নাসরিন ইলার অংশগ্রহণে একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনও ছিল।

 


মন্তব্য