kalerkantho


গণজাগরণ মঞ্চের ৪ বছর

মৌলবাদী তোষণের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানীতে নানা আয়োজনে গতকাল রবিবার চার বছর পূর্তি উদ্যাপন করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। আয়োজন করা হয়েছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ‘রঙ-তুলিতে স্বপ্নের বাংলাদেশ’। বের করা হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। পাশাপাশি আলোচনা সভায় ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শাহবাগে প্রজন্ম চত্বরে গতকাল বিকেল ৩টায় শুরু হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। বিকেল ৪টায় বের হয় ‘জাগরণ যাত্রা’। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড় প্রদক্ষিণ করে প্রজন্ম চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে ‘সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন, উগ্র মৌলবাদ, ‘৭২-এর সংবিধান; কোন পথে বাংলাদেশ?’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. অজয় রায়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন অধ্যাপক আবুল বারকাত, আইন ও মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ড. অজয় রায় বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ উল্টোপথে চলছে।

সরকারের ভেতর মৌলবাদী শক্তি ঘাপটি মেরে আছে। মৌলবাদীদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে সরকারি দল। লুণ্ঠিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার সঠিক পথে নিতে হলে এগিয়ে আসতে হবে সর্বস্তরের মানুষকে; ছাত্র, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের। সবাই যদি এগিয়ে না আসেন, বিদ্রোহ যদি না করেন, পথসভা যদি না করেন, বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। ’ তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। পুরোহিত, আহমদিয়া সম্প্রদায়, ব্লগারদের একের পর এক হত্যা করেছে মৌলবাদীরা। হত্যার বিচারের জন্য আমাদের আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে? মৌলবাদীদের সরকারিভাবে তোষণ করা চালিয়ে গেলে একদিন তারা প্রধানমন্ত্রীকেও হিজাব পরতে বাধ্য করবে। ’

অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেন, ‘বাংলাদেশ ভুল পথে যাচ্ছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম একটি বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও অসাম্প্রদায়িক মানস কাঠামোর বাংলাদেশের জন্য। সেসবের বিন্দুমাত্রও অর্জিত হয়নি। বলা ভালো কোনো সরকার সে জন্য চেষ্টাও করেনি। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ’

ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘সব মানুষের সমান অধিকার, সব মত-পথের মানুষের মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার, বৈষম্যহীন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, শত বছরের সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে গণজাগরণ মঞ্চ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। আর এই আন্দোলনের চালিকাশক্তি দেশের সর্বস্তরের সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষ। ’ 

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি নিয়ে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ যাত্রা শুরু করে। গতকাল ছিল মঞ্চের চার বছর পূর্তির দিন।

চট্টগ্রামে সমাবেশে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। মঞ্চের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল রবিবার এক সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নগরের চেরাগী পাহাড় চত্বরে এই সমাবেশের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।


মন্তব্য