kalerkantho


আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা

ঠেঙ্গারচরে অবকাঠামো তৈরির পর রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রবিবার বিকেলে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ সহযোগিতা চান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঠেঙ্গারচরে অবকাঠামো ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হওয়ার পরই নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সব রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে। সেই চরের উন্নয়ন ও রোহিঙ্গাদের সেখানে নিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে জানান, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ তাদের ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্থায়ীভাবে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অর্থবহ উদ্যোগ নেবে।

ঢাকায় বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের পাশাপাশি জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সংস্থার প্রায় ৬০ জন রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিশনপ্রধান ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও পররাষ্ট্রসচিবও ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনৈতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়েছে।

এর মধ্যে গত কয়েক মাসে এসেছে ৬৯ হাজার। তারা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও অস্থায়ী বসতিতে অবস্থান করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১-৯২ সালে একটি চুক্তির আওতায় মিয়ানমারের দুই লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৯ শরণার্থীকে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল বাংলাদেশ। সে সময় এ প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারে মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক বাসিন্দার উপস্থিতির কারণে শুধু মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়নি; সার্বিক আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, ভৌগোলিক এবং পরিবেশ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ কারণে কক্সবাজার ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে পর্যটনেও সমস্যা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রসঙ্গে বলেন, তাদের ঘিরে মানব ও মাদক পাচারকারীচক্রের বিকাশ ঘটেছে। কক্সবাজারে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তাদের অন্যত্র স্থানান্তরের মাধ্যমে আরো ভালোভাবে মানবিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঠেঙ্গারচর বসবাস উপযোগী। সরকার সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যেমন আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। সেখানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হওয়ার পরই তাদের স্থানান্তর করা হবে। তিনি আশা করেন, সেখানে অবকাঠামো নির্মাণের পর কূটনৈতিক সম্প্রদায়কে নিয়ে পরিদর্শনে তিনি নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ব্রিফিংয়ে কূটনৈতিক কোরের ডিন ও ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, সৌদি রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক কয়েক দশক ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিকের উপস্থিতির কথা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশকে সহযোগিতার কথাও জানান।

কূটনৈতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পর বাংলাদেশকে এটি বাস্তবায়নে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা আশা করে, এটি রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলেন, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়েই রোহিঙ্গা সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান নিহিত। এ লক্ষ্যে তাঁরা পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দেন।


মন্তব্য