kalerkantho


রুয়েটে ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি

আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে নিল কর্তৃপক্ষ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রায় ২৪ ঘণ্টা উপাচার্য অবরুদ্ধ থাকার পর রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবি মেনে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।

দুপুর ২টায় শিক্ষার্থীদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ ঘোষণা দেন, চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং বন্ধ করে দেওয়া টিনশেড হল খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি আগামী শনিবার থেকে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসার আহ্বান জানান। এ সময় সেখানে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারও উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে বাধ্যতামূলক ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ প্রথা চালু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা অনুপস্থিতির কারণে ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন করতে ব্যর্থ হলেও পরবর্তী বর্ষে ক্লাস-পরীক্ষা দিতে পারত। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী পরীক্ষায় ওই ক্রেডিট অর্জন করতে হতো।

তবে গতকাল শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন একের অধিক বিষয়ে অকৃতকার্য বা অনুপস্থিতির কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলেও পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে ব্যাকলগ সিস্টেম অর্থাৎ পরে সেই বিষয়গুলো পরীক্ষা দিয়ে ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করে আসছিল শিক্ষার্থীরা। টানা চার দিন আন্দোলনের পর ৩১ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। পরে ২ জানুয়ারি সকাল ১০টার মধ্যে টিনশেড হলে অবস্থানরত আন্দোলনকারী ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা হল ছাড়লেও গত শনিবার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে অংশ নেয়। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে তারা উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করে আন্দোলন করে আসছিল। রাতভর অবরুদ্ধ থাকার পর গতকাল সকালে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা ডাকে কর্তৃপক্ষ। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর উপাচার্যের কার্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ নেতাকর্মীরা আসেন। সেখানে তাঁরা শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কথা বলেন। পরে ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের সামনে এসে দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ। ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে ওঠে।


মন্তব্য