kalerkantho


ঢাকা মেডিক্যালে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বিতণ্ডা

জরুরি বিভাগ পৌনে এক ঘণ্টা বন্ধ রেখে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বাগিবতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির জেরে গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। পরে কর্তৃপক্ষ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে চিকিৎসকরা কাজে যোগ দেন।

জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় ওই পৌনে এক ঘণ্টা নতুন আসা রোগীরা দুর্ভোগে পড়ে। পুরনো রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।  

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশু ওয়ার্ডের ২০৫ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন ছয় মাসের একটি শিশুর কয়েকজন স্বজন তার চিকিৎসা নিয়ে গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে কর্তব্যরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের সঙ্গে বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপৎসয়ে স্বজনদের ধাক্কাধাক্কিতে গ্লাস ভেঙে ডা. কাকনের হাত কেটে যায়। পরে হাসপাতালে থাকা অন্য চিকিৎসকরা কাজ বন্ধ করে জরুরি বিভাগের সামনে এসে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপৎসয়ে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক পরিষদের সদস্যরা এসে জরুরি বিভাগের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।

রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, হাসপাতালের উপপরিচালক খাজা আবদুল গফুর ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁরা বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ করে কাজে ফিরে যান।

রাত সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

হাসপাতালের উপপরিচালক খাজা আবদুল গফুর কালের কণ্ঠকে জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কী কারণে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হবে।

হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, তুচ্ছ একটি ঘটনা নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেবেশ চন্দ্র তালুকদার বলেন, রোগী শিশুটির চার-পাঁচজন পুরুষ স্বজনকে ওয়ার্ড থেকে চলে যেতে বলায় তারা এক নারী চিকিৎসকের হাতে কাচের গ্লাস দিয়ে আঘাত করে বলে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা অভিযোগ করেছেন।

শিক্ষানবিশ চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইফাত সামি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাস এবং রোগীদের কথা চিন্তা করে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আবারও একই কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।  

শাহবাগ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, শিশুটির মায়ের কাছ থেকে স্বজনদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


মন্তব্য