kalerkantho


রাষ্ট্রপতির কাছে শক্তিশালী ইসির প্রত্যাশা বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সার্চ কমিটি নিয়ে হতাশা থাকলেও রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনই (ইসি) প্রত্যাশা করছে বিএনপি। দলটির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল গতকাল শনিবার ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ইসি গঠন নিয়ে কথা বলেন। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা মহানগরের উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কাৎসলয়ে এ আলোচনা সভা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাধারণ মানুষ বলছে, কী আর হবে? ওই যা ঠিক করে রেখেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেটাই হবে। ’ তবে তিনি রাষ্ট্রপতির ওপর আশা রেখে বলেন, ‘আমরাও দেখতে চাই আসলে উনি (রাষ্ট্রপতি) জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারছেন কি না। আমরা আশা করব, এই দীর্ঘ-অভিজ্ঞ রাজনীতিক; তিনি (রাষ্ট্রপতি) আজকে যে জায়গায় আছেন, তিনি এই জাতিকে এই সংকট থেকে মুক্ত করতে পারেন। তিনি একটি নির্বাচন কমিশন দেবেন, যে কমিশন অন্তত শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াতে পারে। ’

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য সফলতায় আশা এবং সম্ভাব্য ব্যর্থতায় শঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যদি না পারেন ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায়ে তাঁদের নাম লিখিত হবে এবং ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে তাঁরা ব্যর্থ হবেন। আর যদি পারেন ইতিহাসে সবচেয়ে স্বর্ণখচিত জায়গায় নাম লেখা থাকবে। ’

শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের চেয়েও বেশি কিছু প্রত্যাশা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু নির্বাচন কমিশন শক্ত হলে বা শুধু নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হলেই হবে না, নির্বাচনকালীন যে সরকারটা থাকবে তাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হতে হবে।

তার মাথায় থাকতে হবে যে আমি একটা নিরপেক্ষ ইনক্লুসিভ ইলেকশন (সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন) সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে—এই ধরনের একটা সরকার গঠন করতে সাহায্য করব। ’

সার্চ কমিটি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সার্চ কমিটি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমরা দেখেছি যে সার্চ কমিটির মধ্যেও সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এবং সরকারের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া লোকজন রয়েছেন। সরকারি কাজে আছেন সেই ধরনের লোকজনও রয়েছেন। তাঁরা নিরপেক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন বলে আমরা মনে করি না। তার পরও আমরা মেনে নিয়েছি। আমাদের কাছে নাম চাওয়া হয়েছিল, আমরা নাম দিয়েছি। একটি মাত্র কারণে—কোনো রকম সংঘাত ছাড়া, কোনো অনিশ্চয়তা-অস্থিতিশীলতা ছাড়া আমরা গণতন্ত্রকে সুসংহত দেখতে চাই। ’

নির্বাচন কমিশন নিয়ে গণভবনের সংলাপে নিবন্ধনকৃত সব দল আমন্ত্রণ না পাওয়ায় জাগপার ক্ষোভের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল। তবে রাষ্ট্রপতির ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, ‘আপনি সমগ্র বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। আমরা আশা করব, আপনি পরবর্তী সময়ে এই বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এবং সব রাজনৈতিক দলকে যারা নিবন্ধিত, যারা আইন সম্মতভাবে আছে, তাদের সবাইকে আপনি আহ্বান জানাবেন। ’

খালেদা জিয়ার বিচার নিয়ে ক্ষোভ : পুরান ঢাকায় বিশেষ জজ আদালতের ওপর খালেদা জিয়ার অনাস্থার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আইনে আছে—বিবাদী, যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, বিচার চলাকালীন আমি যদি বলি যে এই বিচারে ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সেখানে আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে, কলম বন্ধ করে বসে থাকতে হবে। তা তো করা হয়নি। জোর করে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘যেদিন মামলা চলে, মনে হয় যেন যুদ্ধক্ষেত্র। চতুর্দিকে ৎসব-পুলিশ-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আর যা যা আছে, বন্দুক-টন্দুক নিয়ে, জলকামান-প্রিজন ভ্যান নিয়ে এমনভাবে রাখা হয় যেন মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেররিস্টকে (সন্ত্রাসী) নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেখানে। এটা কোন ধরনের রাজনীতি?’

জাগপার চেয়ারম্যান শফিউল আলম প্রধান অভিযোগ করে বলেন, ‘জাগপাসহ ১২টি নিবন্ধিত দলকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংলাপে কেন ডাকেননি আমরা জানতে চাই। ’

মহানগর জাগপার সভাপতি আসাদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় জাগপা সহসভাপতি রেহানা প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুত্ফর রহমান, যুবদলের সাবেক সহসভাপতি অ্যালবার্ট পি কস্টা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

‘খালেদা আদালতে গেলে হাসিনা কেন নয়?’

খালেদা জিয়ার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে বলে দাবি করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘এক-এগারোর সময় খালেদা জিয়ার নামে চারটি মামলা থাকলেও শেখ হাসিনার নামে ছিল এক ডজনের বেশি মামলা। তার পরও আজ শেখ হাসিনাকে আদালতে যেতে হয় না। তাঁর বেশির ভাগ মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। আর খালেদা জিয়াকে সপ্তাহে দুবার হাজিরা দিতে হচ্ছে আদালতে। খালেদা জিয়া আদালতে গেলে হাসিনা যাবেন না কেন?’

গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে দুদু এ কথা বলেন। দেশনেত্রী ফোরাম নামের একটি সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

সংগঠনের সভাপতি এ কে এম বসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী, বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য