kalerkantho


পর্দা নামল বাণিজ্য মেলার

২৪৩ কোটি টাকার পণ্যের রপ্তানি আদেশ মিলেছে

শেষ দিনে বিশেষ ছাড় কেনাকাটার ধুম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



২৪৩ কোটি টাকার পণ্যের রপ্তানি আদেশ মিলেছে

গতকাল শেষ হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। শেষ দিনে ছিল ক্রেতার ঢল। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২২তম আসরের পর্দা নামল এক মাস চার দিন পর। গতকাল শনিবার শেষ দিনেও মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতার ঢল নেমেছিল।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কেনাকাটার ধুম। শেষ মুহূর্তে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের প্রায় সবাই কিছু না কিছু কিনে ঘরে ফিরেছে। শেষ দিনে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও দেওয়া হয় বিশেষ ছাড়।

গতকাল মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লা আল মামুন, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বেগম মাফরুহা সুলতানা।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান জানান, এবারের মেলা থেকে ২৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার পণ্যের রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। মেলায় ১১৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। গত বছর মেলায় ২৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার রপ্তানির আদেশ হয়েছিল।

আগারগাঁওয়ে আয়োজিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা গত ৩১ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীদের অনুরোধে শেষ মুহূর্তে মেলার সময় আরো চার দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইপিবি।

ফলে গতকাল শেষ হলো এ মেলা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। তার সঙ্গে কৃষকরাও তাল মিলিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভাবনের দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বাণিজ্য মেলা সেই উদ্ভাবনী শক্তিকে উৎসাহ জোগাবে, ভবিষ্যতে এ মেলা আরো বড় পরিসরে হবে। শিল্প-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো; কিন্তু এখন স্বনির্ভর বাংলাদেশ। বিশ্বের সব দেশ এখন বাংলাদেশকে সমীহ করে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, অল্পদিনের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। ’

হেদায়েতুল্লা আল মামুন বলেন, ‘মাসব্যাপী মেলা সফল করার জন্য ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। এ ক্ষেত্রে ইপিবি প্রতিবছর বেশ পরিশ্রম করে। মেলা আয়োজনে আমরা সফল বলেই মানুষ যানজট উপেক্ষা করে মেলায় আসে। তাই মেলাও প্রাণবন্ত হয়েছে। ’

আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশে সবার সহযোগিতায় শেষ হলো মেলা। একসময় বাণিজ্য মেলায় আমি বাঁশ দিয়ে স্টল বানিয়েছিলাম। সেই গতি ছাড়িয়ে আজ বিশাল বিশাল প্যাভিলিয়ন ও স্টল হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বেশি আয় হলে ভ্যাটও বেশি দেবে। ব্যবসায়ীরা বিশ্বে অনেক সুযোগ করে দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কল্যাণেই এখন ইন্দোনেশিয়ায় ভিসা ছাড়াই যাওয়া যাচ্ছে। ’

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম মাফরুহা সুলতানা বলেন, এবার রপ্তানি অর্ডার পাওয়া গেছে ২৪৩ দশমিক ৪৪ কোটি টাকার। পণ্য বিক্রি হয়েছে ১১৩ দশমিক ৫৩ কোটি টাকার। গতবারের চেয়ে এবার মেলায় ভালো বিক্রি হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে মেলা শেষ হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ পৎসয়ে মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেরা প্যাভিলিয়ন ও স্টলের পুরস্কার দেওয়া হয়। বরাবরের মতো এবারও মেলায় সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা ও প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ওয়ালটন। সেরা প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতেও প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান—আকতার ফার্নিচার, হাতিল ফার্নিচার ও আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। একই ক্যাটাগরিতে নাদিয়া ফার্নিচার, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং কোকোলা ফুড প্রডাক্টস পায় তৃতীয় পুরস্কার।

সাধারণ প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে কারুপণ্য রংপুর। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে আলিবাবা ডোর অ্যান্ড ফার্নিচার এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে মৌসুমী টেক্সটাইল লিমিটেড। সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে জয়ীতা ফাউন্ডেশন, দ্বিতীয় হয়েছে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন এবং তৃতীয় হয়েছে জেডিপিসি। প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়নে সেরা হয়েছে রহিমআফরোজ, দ্বিতীয় আব্দুল মোনেম লিমিটেড এবং তৃতীয় হয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান—গোল্ডেন হার্ভেস্ট লিমিটেড ও বিআরবি কেবল।

সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়নে প্রথম হয়েছে রংপুর মেটাল লিমিটেড, দ্বিতীয় আহমেদ ফুড প্রডাক্টস এবং তৃতীয় আফতাব বহুমুখী ফার্ম। এ ছাড়া সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার স্টল ফুড স্টল, সাধারণ স্টল, মহিলা উদ্যোক্তা, বিদেশি ক্যাটাগরি এবং সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কার দেওয়া হয়।


মন্তব্য