kalerkantho


রুয়েটে ‘৩৩ ক্রেডিট’ বাতিলের দাবি

রক্ত ঢেলে অবস্থান কর্মসূচি, উপাচার্য অবরুদ্ধ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ন্যূনতম ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে এবার প্রশাসন ভবনের প্রবেশপথে নিজ শরীরের রক্ত ঢেলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যা ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান করছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় এবং ক্রেডিট প্রথা বাতিলের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে দুপুর ১২টার দিকে তারা প্রশাসন ভবনে অবস্থান নেয়। দেড়টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলম বেগকে প্রশাসন ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা নিজেদের শরীর থেকে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত নিচ্ছে। সেই রক্ত দিয়ে নিজেদের দাবিগুলো রাস্তায় ও প্রশাসন ভবনের সিঁড়িতে লিখছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। শিক্ষকরা আজ (গতকাল) একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গেছেন তাদের রক্ত মাড়িয়ে।

দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। গতকাল পঞ্চম দিনের মতো ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিছুই জানায়নি।   শিক্ষার্থীদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত একাডেমিক কাউন্সিলের সভা চলছিল বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রফিকুল আলম বেগ।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে ক্লাস-ল্যাব স্বল্পতার কারণে যারা ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে না, তাদের অন্য ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস বা ল্যাবে থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে জায়গা ও শিক্ষাগত দুই দিকেই সমস্যা হবে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার এক বছরের বেশি সময় ক্ষতি হবে। সিলেবাসগত জটিলতায়ও পড়তে হয় ওই শিক্ষার্থীকে। প্রশাসন কোনো পদ্ধতি প্রণয়ন করলে সেটা সব দিক বিবেচনা করে করা উচিত বলেও দাবি করে শিক্ষার্থীরা।


মন্তব্য