kalerkantho


নাটোরে রোগীর কিডনি চুরির অভিযোগ

আটক চিকিৎসক সিভিল সার্জনের হেফাজতে

নাটোর প্রতিনিধি   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নাটোরে চিকিৎসার নামে রোগীর শরীর থেকে কিডনি চুরির অভিযোগে আটক চিকিৎসক রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এম এ হান্নানকে নাটোর সিভিল সার্জনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সিভিল সার্জনের পক্ষে নাটোর সদর থানা থেকে অভিযুক্ত ডা. এম এ হান্নানকে ছাড়িয়ে নেন নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী তিন দিনের মধ্যে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে ভুক্তভোগী রোগী আসমা বেগমের কিডনি পরীক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় ডা. আজাদকে। ভুক্তভোগী রোগীর স্বামী ফজলু বিশ্বাস থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, কিডনি আছে কী নেই তা অনুসন্ধানে তিন দিন সময় দেওয়া হলো। এর মধ্যে সন্তোষজনক সমাধান না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাটোর সদর থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কেোনা মামলা না থাকায় তাঁকে সদর হাসপাতালের আরএমওর জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রোগীর শরীরে কিডনি না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় তাহলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।

এ বিষয়ে নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিসক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আসমা বেগমের পরিবার ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নাটোর হাসপাতালে আলোচনা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, অন্য কোনো ক্লিনিক অথবা হাসপাতালে আইভি পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে জনসেবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সে ব্যয়ভার বহন করবে।

অথবা রোগীর অভিভাবকরা অন্য কোথাও পুনরায় টেস্ট করাবেন। টেস্টে কিডনি নেই প্রমাণিত হলে ফৌজদারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ডা. আবুল কালাম আজাদ নিজ জিম্মায় ডা. এম এ হান্নানকে ছাড়িয়ে নেন। এ সময় বিএমএ এবং স্বাচিপ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  

এদিকে ভুক্তভোগী বর্তমানে নিজ বাড়ি সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামে অবস্থান করছেন। রবিবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে তাঁকে রাজশাহী নেওয়ার কথা রয়েছে।


মন্তব্য