kalerkantho


আলোচনা সভায় ফখরুল

নাগরিকত্ব আইন ক্ষমতাসীনদের নিরাপত্তার জন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ক্ষমতাসীন দলের একটি বিশেষ পরিবার ও কিছু ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্যই সরকার নাগরিকত্ব আইন ২০১৬-এর খসড়া প্রণয়ন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সংগঠনটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার দলটির পক্ষে এমনটা দাবি করে এর বিরুদ্ধে সারা দেশে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন ২০১৬-এর খসড়া নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। এতে দলটি সমর্থিত শিক্ষাবিদ, আইনজীবীসহ পেশাজীবী নেতারা অংশ নেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে যেটা বুঝি, এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে শাসকগোষ্ঠীকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং তাদের ক্ষমতা আরো বেশি সংহত করা। ’

নাগরিকত্ব আইনের খসড়ায় প্রবাসীদের বিষয়ে প্রস্তাবনার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রবাসীরা দেশে ফিরে এলে ছয় বছরের আগে কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারবে না, কোনো সংগঠন করতে পারবে না, এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশও নিতে পারবে না। এ রকম একটি অদ্ভুত আইন এটি। ’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আইনটির খসড়া দেখে মনে হচ্ছে, এটি হয় অপরিপক্ব হাতে, না হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। এটি জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী একটি বিল।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘এ সংসদের কোনো জনপ্রতিনিধিত্ব নেই। এ সংসদে পাস করা কোনো আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তা উচ্চ আদালতে টিকবে না।

সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলেন, আইনটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, একটি পরিবারের অনেক বিদেশি নাগরিক সদস্য রয়ে গেছে, তাদের হয়তো নাগরিক বানাতে হবে। এমন অনেক নাগরিক আছে, যাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করতে হবে শুধু রাজনৈতিক কারণে। এটিই হচ্ছে আইনটির মূল স্পিরিট।

দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, কেন্দ্রীয় নেতা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাইনুল আহসান খান, অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য