kalerkantho


জামায়াতের ২৮ নারী রিমান্ডে

সরকার উত্খাতের ষড়যন্ত্র, দাবি পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সরকার উত্খাতের ষড়যন্ত্র, দাবি পুলিশের

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার ২৮ নারী নাশকতা করে সরকার উত্খাতের পরিকল্পনা করতে জড়ো হয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন যুদ্ধাপরাধের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরিবারের সদস্য রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের রুকন, সদস্য ও সমর্থক। গতকাল শুক্রবার সকালে মোহাম্মদপুর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার।

এদিকে গতকাল ২৮ নারীকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় দুুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাজমহল রোডের ১১৭ নম্বর ভবনে অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় তলা থেকে সন্দেহভাজন ২৮ নারীকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটককৃতরা জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো শাহনাজ বেগম, নাইমা আক্তার নাইমা, উম্মে খালেদ, জোহরা বেগম, সৈয়দা শাহিন আক্তার, উম্মে কুলসুম, জেসমিন খান, খোদেজা আক্তার, সালমা হক, সাকিয়া তাসনিম, সেলিমা সুলতানা সুইটি, আসমা খাতুন, তাসলিমা, শরীফা আক্তার, রুবিনা আক্তার, আফসানা মিমি, রোখসানা বেগম, হাসসা, আখলিমা ফেরদৌস আঁখি, রাজিয়া আক্তার, রুমা আক্তার, উম্মে আতিয়া, ফাতেমা বেগম, সাদিয়া, ইয়াসমিন আক্তার, সুফিয়া ওরফে চাঁদনি, আনোয়ারা বেগম ও রহিমা খাতুন রিমা।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ডিসি বিপ্লব কুমার বলেন, ‘আমাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল মোহাম্মদপুর এলাকায় এ ধরনের বৈঠক মাঝে মাঝে হয়। বৃহস্পতিবার আমরা বাসাটি নিশ্চিত হওয়ার পর সেখানে অভিযান চালাই।

অনেকক্ষণ চেষ্টা করলেও তারা প্রথমে দরজা খুলতে চায়নি। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তারা দরজা খুলে দেয়। তাদের সমবেত হওয়ার উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অবৈধ উপায়ে বিব্রত করা। ’

আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন যুদ্ধাপরাধের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরিবারের সদস্য রয়েছে জানিয়ে ডিসি বলেন, ‘এদের মধ্যে রুকন পর্যায়ের নেত্রীও রয়েছে। তারা শুধু ঢাকা নয়, বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে বলে জানা গেছে। তারা অনেকেই শিক্ষিত। কেউ কেউ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছে। তবে অনেকেই তাদের প্রকৃত পরিচয় দিচ্ছে না। তাদের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরিবারের সদস্য রয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে কে বা কারা সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ’

বিপ্লব কুমার সরকার আরো জানান, অভিযানের সময় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের উদ্দেশ্যে ছাপানো লিফলেট, সংগঠনের মাসিক রিপোর্ট ফরমসহ গোলাম আযমের লেখা তিনটি এবং মতিউর রহমান নিজামীর লেখা একটি বই উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা ধর্মের ও তাবলিগের কথা বলে নাশকতা ছড়ানোর পরিকল্পনায় ছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে।

এদিকে আদালত সূত্র জানায়, গতকাল গ্রেপ্তারকৃতদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।


মন্তব্য