kalerkantho


বিএনপির অভিযোগ

বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিষ্ঠানে কূটনীতিকদের পরিদর্শন কিসের আলামত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগ পুরো দেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার এমনটা দাবি করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রতিবেশী একটি দেশের কূটনীতিকদের পরিদর্শনে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা উন্মুক্ত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এটি কিসের আলামত? সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পরনির্ভরশীলতার কারণেই প্রভুদের কাছে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তাকে উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। ’

বিএনপির এই মুখপাত্র প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিকের পরিদর্শন কি অজানা চুক্তির বহিঃপ্রকাশ? সামগ্রিকভাবে মনে হচ্ছে, আমাদের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পার্শ্ববর্তী দেশের এক্সটেনশনে পরিণত করার উদ্যোগ চলছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবেশী দেশকে খুশি করার জন্য নানা উপহারে ভূষিত করা হচ্ছে রাষ্ট্রাচারের প্রকরণ অমান্য করে। আর এর বিনিময়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তি হচ্ছে লবডঙ্কা। ’

‘বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সফর নিয়ে আপনি পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে ভারতকেই ইঙ্গিত করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বাংলাদেশের ৬৩টি জেলা ভ্রমণ করার ঘটনায় এ ধরনের কথা বলেননি কেন?’—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘দেখুন, সেটা ছিল ব্যক্তিগত সফর। আর দেশের অন্যান্য স্থান হলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন পুলিশ একাডেমি বা অন্যান্য জায়গায় একটি বিশেষ দেশের কূটনীতিকরা বারবার যেতে থাকলে প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে।

আমি সেই প্রশ্নের কথা এখানে বলেছি। ’

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘ভারত একতরফাভাবে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। এর ফলে সে দেশে আমাদের দেশের পাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়েছে। গত ৫ জানুয়ারি ভারত সরকার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি আটকে গেছে। অথচ তাঁবেদার সরকারের এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য নেই, সরকারের কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। উল্টো তারা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ করে প্রতিবেশী দেশের পণ্য পরিবহনে সুবিধা করে দিচ্ছে। ’

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশকে ভারতের এক নম্বর মার্কেটে পরিণত করার জন্য যত আয়োজন তা এই সরকার সম্পন্ন করেছে। শুধু তাই নয়, ভারত যাতে মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-রুট দিয়ে সহজে পণ্য আনা-নেওয়া করতে পারে সে জন্য গত সপ্তাহেও ভোটারবিহীন এই সরকার ৭০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তারা দেশকে ভারতের জন্য উজাড় করে দিচ্ছে। কোথাও ট্রানজিটের নামে করিডর দিয়ে, কোথাও মালামাল পরিবহনের নামে নৌ ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে এসব করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশটি আমাদের স্থলপথ, নৌপথ—এমনকি আকাশপথ অবাধে ব্যবহার করলেও বিনিময়ে আমরা কিছুই পাচ্ছি না। ’

আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে জিয়া পরিবারের ওপর অমানবিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, নাজেহাল করতেই খালেদা জিয়াকে প্রতি সপ্তাহে এক বা একাধিকবার আদালতে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা সরকারপ্রধানের প্রতিহিংসার বর্ধিত বহিঃপ্রকাশ। এই নাজেহাল প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উপলব্ধি করা উচিত, এ সরকারই শেষ সরকার নয়।

দেশে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক আগ্রাসন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যধিক মাত্রায় বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, এম এ মালেক, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য