kalerkantho


পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প

ঋণচুক্তির জন্য চীনকে তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঋণচুক্তির জন্য চীনকে তাগিদ

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে চীন সরকারের অর্থায়নের আশ্বাস মিললেও এ বিষয়ে এখনো ঋণচুক্তি হয়নি। সরকারের অগ্রাধিকার এই প্রকল্পের কাজ সময়মতো বাস্তবায়নের স্বার্থে চীন সরকারকে তাগিদ দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

নতুন রেলপথ নির্মাণের এই মেগাপ্রকল্পে ব্যয় হবে ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকার জোগান দেওয়ার কথা রয়েছে চীন সরকারের।

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এই রেলপথ। গত বছরের মে মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে রেলওয়ের বাণিজ্যিক চুক্তি হলেও এখনো ঋণচুক্তি হয়নি চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, রেল সংযোগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে জি টু জি পদ্ধতিতে। চীনের এক্সিম ব্যাংক এ জন্য পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৩১৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার ঋণ দেওয়ার কথা রয়েছে। চলতি ২০১৭ সালে দরকার হবে চীনের ৮০ কোটি ডলার।

এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে দুই হাজার ৭৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত ঋণচুক্তির আশা করছে বাংলাদেশ।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে রেল ভবনে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পর থেকে দ্রুত ঋণচুক্তির জন্য তাগাদা দিতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে তাগাদাপত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, সরকার চীনা দূতাবাসকে এরই মধ্যে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে।

গত আগস্টে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের দলিল রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। ঋণচুক্তি ও ঋণ মঞ্জুরির জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের পক্ষ থেকে সাড়া মেলেনি। এ অবস্থায় সরকার বিষয়টি নিয়ে চীন সরকারকে তাগিদ দিতে যাচ্ছে।

গত অক্টোবরে চীনা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরকালে ঋণচুক্তিটি সই হওয়ার আশা করেছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে ওই সময়ে তা সই হয়নি।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তার আগে ২০১৮ সালের মধ্যে নির্মিতব্য রেলপথের ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা অংশ চালুর লক্ষ্য রয়েছে। কারণ মূল পদ্মা সেতু ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম দিন থেকেই পদ্মা সেতুতে বাস ও ট্রেন চলাচলের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বাংলাদেশ সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মূল পদ্মা সেতুর সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ। আর রেল সংযোগ নির্মাণে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড। ঋণচুক্তি সম্পাদন হলে পুরো কাজে আরো গতি আসবে।

ঢাকা-গেণ্ডারিয়া, গেণ্ডারিয়া-মাওয়া, মাওয়া-ভাঙ্গা জংশন-ভাঙ্গা ও ভাঙ্গা জংশন-যশোর—এই চার ধাপে নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা অংশ প্রথম ধাপে চালু করা হবে। মূল পদ্মা সেতু চালুর সঙ্গে সঙ্গে রেলপথের এ অংশ চালু করতে হাতে সময় আছে ২২ মাস।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হবে প্রায় এক হাজার ৯০০ একর জায়গা। ইতিমধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর জেলায় অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরকালে এ নিয়ে বড় অগ্রগতির আশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এখন ঋণচুক্তির জন্য তাগিদ দিয়ে চীনকে চিঠি দেবে সরকার। ’


মন্তব্য