kalerkantho


চিকিৎসকদের জড়িয়ে এসএসসির প্রশ্ন করায় ক্ষোভ

শাস্তি দাবি বিএমএর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকা বোর্ডের অধীনে এসএসসির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে সৃজনশীল অংশে একজন ‘লোভী চিকিৎসকের’ প্রসঙ্গ নিয়ে একটি প্রশ্ন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। এ নিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এই প্রশ্নপত্রে জড়িতদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।

প্রশ্নপত্রের সৃজনশীলের ২ নম্বর প্রশ্নে বলা হয়, ‘জাহেদ সাহেব একজন লোভী ডাক্তার। অভাব ও দারিদ্র্য বিমোচন করতে গিয়ে তিনি সব সময় অর্থের পেছনে ছুটতেন। একসময় গাড়ি-বাড়ি, ধন-সম্পদ সব কিছুর মালিক হন। তবুও তার চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই। অর্থ উপার্জনই তাঁর একমাত্র নেশা। অন্যদিকে তাঁর বন্ধু সগীর সাহেব তাঁর ধন-সম্পদ থেকে বিভিন্ন সামাজিক জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেন। তিনি মনে করেন, সুন্দরভাবে জীবনযাপনের জন্য বেশি সম্পদের প্রয়োজন নেই। ’

এই অনুচ্ছেদের আলোকে শিক্ষার উদ্দেশ্য এবং ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে বলা হয় শিক্ষার্থীদের। চিকিৎসকদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে একটি পেশাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক চিকিৎসক। চিকিৎসা পেশার বাইরের লোকজনও এ নিয়ে প্রতিবাদ করেছে।

এ ঘটনার মাধ্যমে চিকিৎসককে অর্থলিপ্সু হিসেবে উপস্থাপন করায় ক্ষোভ জানিয়ে এর বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, প্রশ্নটি বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে চিকিৎসা পেশার মতো মহান ও মহৎ একটি পেশা সম্পর্কে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা প্রদান করে দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও মহৎ পেশায় নিয়োজিত চিকিৎসক সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এই প্রশ্নপত্র প্রণয়নে জড়িতদের আগামী তিন দিনের মধ্যে খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান এবং চিকিৎসকদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছে বিএমএ।

এ ব্যাপারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আসলে চিকিৎসক সমাজকে এর মাধ্যমে হেয় করা হয়নি। এর পরও কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আমরা দুঃখিত।


মন্তব্য