kalerkantho


শাহজালালে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বিরক্ত ব্যবসায়ীরা

বিমানবন্দর এভাবে চলতে পারে না : তোফায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং বা পণ্য খালাস ও সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে গতি আনতে গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানো, ব্যবসার খরচ কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার এমসিসিআইয়ের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে এ দাবি জানায়। প্রতিনিধিদলে কমিটির সদস্য ও এসিআই লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলা, কে অ্যান্ড কিউয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাবিথ এম আউয়ালসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এ বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার মান এমন পর্যায়ে নেমেছে যে আমদানি পণ্য আসার পর তা কবে খালাস হবে বা আদৌ পণ্য পাওয়া যাবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায় সমস্যা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের দুরবস্থা স্বীকার করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিমানবন্দরের অবস্থা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাই। সেখানকার বিমানবন্দরে লাগেজ আসতে সময় লাগে না। আর আমাদের এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে। সব কথা আমি বলতে চাই না। সেটি আরেকটি মন্ত্রণালয়ের অধীনের সংস্থা। শুধু বলব, এই অবস্থায় বিমানবন্দর চলতে পারে না। ’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, অবকাঠামো দুর্বলতা ও জ্বালানি সংকট আছে। তবে তা দূর করার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। গ্যাস সমস্যার সমাধান আগামী ডিসেম্বর নাগাদ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ১০৮টি গ্যাস কূপ খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টার্মিনাল করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে শিল্পের জমির সমস্যাও দূর করা হবে।

এমসিসিআইয়ের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, বিমানবন্দরে পণ্য খালাসব্যবস্থা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যকে খুব সমস্যায় ফেলছে।

এসিআই লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলা বলেন, বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। এখানে পণ্য আসার পর তা দিনের পর দিন পড়ে থাকছে। আবার হারানো যাচ্ছে। পণ্য খালাসে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। পণ্য সংরক্ষণেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক পণ্য নষ্ট হচ্ছে।

কে অ্যান্ড কিউয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাবিথ এম আউয়াল বলেন, বাজারে বিভিন্ন নকল পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ওষুধ, বীজ, প্রসাধনী—সবই নকল হচ্ছে।   এতে উত্পাদক ও গ্রাহকরা ক্ষতির মুখে পড়ছে। নকল প্রতিরোধে কোনো আইন নেই।   তিনি এ বিষয়ে বিশেষ আইন করার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে রেল কার্গো চালুর প্রস্তাব করেন।

এমসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হাবিবুল্লাহ এন করিম তথ্য-প্রযুক্তি রপ্তানির বিপরীতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। এ ছাড়া প্রতিযোগিতা কমিশন কার্যকর করা এবং কপিরাইট, পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক সার্টিফিকেট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) নিয়ে ব্যবসায়ীদের না ভাবার পরামর্শ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জিএসপি নিয়ে ভাবার কিছু নেই। বাংলাদেশ বিভিন্ন পণ্যে নগদ সহায়তা দিচ্ছে। জিএসপি না পেলেও রপ্তানিতে অসুবিধা হবে না। তবে বিষয়টি সম্মানের। বাংলাদেশ আমেরিকার দেওয়া শর্ত পূরণ করেছে, এখন তাদের বিবেচনার বিষয়। তবে আমেরিকা টিপিপি (ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ) বাতিল করায় বাংলাদেশের যে সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল, তা কেটে গেছে।


মন্তব্য