kalerkantho


৮০ ফুট উঁচু প্রতিমা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



৮০ ফুট উঁচু প্রতিমা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মঠবাড়িয়া গ্রামের নির্মল চাঁদ ঠাকুরবাড়িতে ৮০ ফুট উচ্চতার কালীপ্রতিমার পূজা গতকাল শেষ হয়। এই পূজা দেখতে হাজার হাজার মানুষের পদচারণ ঘটে। ছবি : কালের কণ্ঠ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মঠবাড়িয়া গ্রামের নির্মল চাঁদ ঠাকুরবাড়িতে ৮০ ফুট (৫০ হাত) উচ্চতার কালী প্রতিমার পূজা গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ কালীপূজা উৎসব ঘিরে বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষের পদচারণ ঘটেছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মঠবাড়িয়া গ্রামের নির্মল চাঁদ সাধু ঠাকুরবাড়ির শ্রীশ্রী হরি মন্দির প্রাঙ্গণে এ বিশালাকৃতির কালী প্রতিমার পূজা গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়। গতকাল তিন দিনের এ পূজা শেষ হলেও আগামী এক সপ্তাহজুড়ে এখানে উৎসবের আমেজ চলবে।

মন্দিরের সেবায়েত সন্তোষ মিস্ত্রী জানান, ২৭ বছর ধরে প্রতিবছর সরস্বতীপূজার এক দিন আগে এ ঐতিহ্যবাহী কালীপূজা শুরু হয়ে টানা তিন দিন চলে। ১৯৯০ সালে তিন ফুট উচ্চতার কালী প্রতিমা দিয়ে এ মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা শুরু হয়। প্রতিবছর প্রতিমার উচ্চতা বাড়তে বাড়তে এবার ৮০ ফুটের প্রতিমা নির্মিত হয়। এ কালীপূজা উৎসব ঘিরে উৎসবস্থলে মেলাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার পূজা শুরুর রাতে মঠবাড়িয়া পৌর শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরবর্তী নির্মল ঠাকুরবাড়ির মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে  ৮০ ফুট প্রতিমার কালীপূজা উৎসব ঘিরে ভক্তদের ব্যস্ততা।

কালীপূজার আয়োজক হরি চাঁদ ঠাকুর মন্দিরের ধামকর্তা নির্মল চন্দ্র চাঁদ ঠাকুর জানান, জনশ্রুতি রয়েছে, একবার গ্রামে জলবসন্ত রোগের মহামারি দেখা দেয়। এ সময় গ্রামের মানুষ এ রোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানিও ঘটে। হরিমন্দিরের সেবায়েত স্বপ্নে কালীপূজা দেওয়ার নির্দেশনা পান। এরপর কালীপূজার আয়োজন করা হয়। এ পূজার প্রসাদ খেয়ে সেদিন জলবসন্তের মহামারি থেকে গ্রামবাসী মুক্তি পায়। এর পর থেকে প্রতিবছর গ্রামের মানুষের সব ধরনের রোগ দূর করতে এ কালীপূজার আয়োজন চলে আসছে। তিনি জানান, এবার ৮০ ফুট উচ্চতার কালী প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৫২ ফুট। পূজায় সংকটাপন্ন মানুষের নানা মানত দিয়েই এই আয়োজন চলছে। সাত দিন ধরে এখানে অব্যাহতভাবে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। তিনি আরো জানান, ১২ জন গুণরাজ (প্রতিমাশিল্পী) দুই মাস ধরে এ বিশালাকৃতির প্রতিমা নির্মাণ করেছেন। এতে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

প্রতিমার প্রধান কারিগর বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ভাস্কর নিত্যানন্দ হালদার জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর এখানে এ কালী প্রতিমা নির্মাণ করছেন। এ বছর তিনি ৮০ ফুট উচ্চতার প্রতিমা নির্মাণ করেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘এশিয়ার মধ্যে এত বড় উচ্চতার কালী প্রতিমার পূজার আয়োজন করা হয় কি না আমাদের জানা নেই। এ প্রতিমা নির্মাণে বাঁশ, নলের কঞ্চি, মাটি, কাঠের গুঁড়ি ও খড় ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিশালাকৃতির কালী প্রতিমা শুধু একটি সম্প্রদায়ের উৎসব হিসেবে নয়, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও এ মাঙ্গলিক উৎসবে সমবেত হয়। জীবনের সব সংকট থেকে মুক্তির আশায় এখানে সবাই আসে। ’

মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম ফারুক হাসান বলেন, এ পূজা ঘিরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছে।


মন্তব্য