kalerkantho


অধ্যাপক তাহের হত্যা মামলা

চার বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি আপিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চার বছরেও

নিষ্পত্তি হয়নি

আপিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের রায়ের ওপর করা আপিল চার বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি। প্রিয় শিক্ষকের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিল ও সভা করে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বিভাগের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেয়। তারা হাইকোর্টের রায় দ্রুত নিষ্পত্তি ও কার্যকরের দাবি জানায়।

সভায় বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার ইমামুল হক, অধ্যাপক হামিদুর রহমান, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মৃণাল কান্তি রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শিক্ষক মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম, জাহাঙ্গীরের ভাই শিবিরকর্মী আব্দুস সালাম ও নাজমুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। অভিযোগপত্রের অন্য দুই আসামি শিবির নেতা মাহবুবুল আলম সালেহী ও জাহাঙ্গীরের বাবা আজিমুদ্দিনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। এরপর রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন আসামিরা। ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল আপিলের রায়ে শিক্ষক মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল এবং জাহাঙ্গীরের ভাই শিবিরকর্মী আব্দুস সালাম, নাজমুল ইসলামের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের দুজন খালাস ও অন্য দুজনের সাজা কমানোয় ড. তাহেরের পরিবারের পক্ষ থেকে আবার সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। কিন্তু চার বছর পরও আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি।

ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার ইমামুল হক বলেন, ‘আপিলের শুনানিও শেষ হয়নি, যা আমাদের হতাশ করেছে। দ্রুত এ মামলার বিচার নিষ্পত্তির মাধ্যমে অপরাধীদের শান্তি কামনা করছি। ’

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাতে অধ্যাপক তাহের বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হন। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে নিজ বাসার পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অধ্যাপক তাহেরের বাসার কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীরকে আটক করে। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক তাহেরের সহকর্মী জামায়াতপন্থী শিক্ষক মিয়া মো. মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিক্ষক তাহেরের ছেলে সানজিদ আলভী নগরের মতিহার থানায় একটি মামলা করেন।


মন্তব্য