kalerkantho


সয়াবিনের দাম লিটারে বেড়েছে ৫-১০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সয়াবিনের দাম লিটারে

বেড়েছে ৫-১০ টাকা

কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করেই সয়াবিন তেলের দাম কম্পানিভেদে লিটারপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরাতেও বেড়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, মিল মালিকরা খোলা এবং বোতলজাত উভয় প্রকার তেলের দাম বাড়িয়েছেন। আর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য হচ্ছে—বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে, এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও।  

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সয়াবিন তেলের বোতল ব্র্যান্ডভেদে আগের চেয়ে লিটারপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও পুষ্টি ব্র্যান্ডের এক লিটার সয়াবিনের দাম ছিল ৯৫ টাকা, গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ১০৫ টাকায়। তীর ব্র্যান্ডের এক লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ছিল ৯৮ টাকা, সেটা ৮ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০৬ টাকা। এ ছাড়া রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের এক লিটারের বোতলের দাম ছিল ১০০ টাকা, সেটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০৫ টাকা। মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সয়াবিন লিটারে ৬ টাকা বাড়িয়ে ১০৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আর পাঁচ লিটারের বোতল ব্র্যান্ডভেদে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহ পাঁচ লিটারের বোতল ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

বোতলজাত সয়াবিনের মতোই খোলা সয়াবিন এবং পামঅয়েলের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন গত সপ্তাহে ৮৮ টাকায় বিক্রি করা হলেও গতকাল ৯৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর পামঅয়েল লিটার প্রতি পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৭৫ টাকার পরিবর্তে ৮০ টাকা রাখা হচ্ছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ইউসুফ জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ইউসুফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এর আগে কখনো ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো হলে কম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এবার তারা সেটা করেনি। কোনো রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই এবার ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়েছেন মিল মালিকরা। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদের। কারণ ক্রেতারা এসে দাম বৃদ্ধির কথা শুনেই আমাদের সঙ্গে ঝগড়া বাধাচ্ছেন। অনেক ক্রেতা রাগ করে সয়াবিন তেল না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। ’

দাম বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম কালের কণ্ঠকে বলেন, দাম বাড়ানোর সঙ্গে পাইকারি বা খুচরা ব্যবসায়ীদের কোনো ভূমিকা নেই। ভোজ্য তেলে এক টাকা কি ১০ টাকা বৃদ্ধি পায়, সেটা বাড়ান মিল মালিকরা। এবারও তাই ঘটেছে। মিল মালিকরা দাম বাড়ানোর ফলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে।

মেঘনা ব্র্যান্ডের ফ্রেশ সয়াবিনের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. নাসির বলেন, বিশ্ববাজারে গত কয়েক মাস ধরেই ভোজ্য তেলের দাম বাড়ছে। প্রতি টন সয়াবিন ৭৬০ ডলার থেকে বেড়ে এখন ৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে। মূলত বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশেও বেড়েছে ভোজ্য তেলের দাম।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা করে বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দেশি মসুর ডাল ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। ভারতীয় মসুর ডাল পাঁচ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা, মুগ ডাল (দেশি) ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ১৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, মাষকলাই ১৩৫ টাকা এবং ছোলা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৩ টাকা, দেশি রসুন ২০০ টাকা, ভারতীয় রসুন ২১০ টাকা এবং চীনা রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি আদা ১৫০ টাকা, চীনা আদা ৮০ টাকা, ক্যারালা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


মন্তব্য