kalerkantho

25th march banner

জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু

কবিতায় মানবতার জয়গান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কবিতায় মানবতার জয়গান

পঙিক্তমালায় শান্তির বারতা ও মানবতার জয়গানের মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় কবিতা উৎসব। এবারের স্লোগান ‘কবিতা মানে না বর্বরতা’। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও কবিতা পরিষদের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম দিন দেশ-বিদেশের কবিদের মিলনমেলায় উৎসব ছিল মুখর। ৩১তম এই উৎসবে দেশের খ্যাতিমান কবিদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন সাত দেশের ১৪ জন কবি ও লেখক।

আজ বৃহস্পতিবার উৎসবের শেষ দিন । সকাল ১১টা থেকে সাতটি অধিবেশনের মধ্যে রয়েছে সেমিনার, কবিতা ও ছড়া পাঠ। বিকেল সাড়ে ৫টায় উৎসব মঞ্চে ২০১৬ সালের জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার এবং জাতীয় কবিতা পরিষদ সম্মাননা প্রদান করা হবে।

গতকাল কবিতা উৎসবের উদ্বোধনের কথা ছিল বরেণ্য কবি বেলাল চৌধুরীর। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে না পারায় তাঁর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। তিনি বলেন, কবিতা সর্বদাই সত্যনিষ্ঠ। কবিতায় কোনো মিথ্যা, শঠতা বা নীচুতা চলে না। বাঙালি ও বাংলাদেশের কবিতা সমৃদ্ধিশালী, ঐতিহ্যপ্রিয় এবং প্রকৃতি ও জীবনঘনিষ্ঠ।

অনুষ্ঠানে উৎসবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কবি আসাদ চৌধুরী। বক্তব্য দেন উৎসব আহ্বায়ক রবিউল হুসাইন ও সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ। অনুষ্ঠান মঞ্চে শিল্পীরা পরিবেশন করেন একুশের গান এবং মুহাম্মদ সামাদ রচিত ও ফকির আলমগীরের সুরারোপিত উৎসব সংগীত ‘কবিতা মানে না বর্বরতা...’।

এবারের উৎসবটি সব্যসাচী লেখক ও কবি সৈয়দ শামসুল হক, কবি শহীদ কাদরী ও কবি রফিক আজাদকে উৎসর্গ করা হয়েছে। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কবি আমিনুর রহমান সুলতান। উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, কবি নাসির আহমেদ, সাযযাদ কাদির প্রমুখ।

এর আগে কবিতা পরিষদের নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার হয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা জাতীয় কবিসহ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও পটুয়া কামরুল হাসানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

সভাপতির ভাষণে কবি মুহাম্মদ সামাদ বলেন, সব শিল্পের দাবি একটাই—তা হলো অসত্য, অন্যায়, কলুষতা ও অমঙ্গলের জন্য বিদ্রোহ আর সুন্দরের আহ্বান। সুন্দরকে পেতে হলে কৃষিখামার, কলকারখানা অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের পাশাপাশি কবিতা, ইতিহাস, সংগীত, চিত্রকলাসহ শিল্পমাধ্যমের চর্চাক্ষেত্র প্রসারিত করা প্রয়োজন। এই পথে মানব উন্নয়নের ধারাকে বেগবান করতে না পারলে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে এবং বর্বরতায় পরিণত হবে।  

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে অনুষ্ঠিত হয়  ‘কবিতা মানে না বর্বরতা’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন আমন্ত্রিত সাত দেশের কবিরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের আশিস সান্যাল, চিন্ময় গুহ, বীথি চট্টোপাধ্যায়, কাজল চক্রবর্তী, রাতুল দেববর্মণ ও দিলীপ দাস। এ ছাড়া ছিলেন সুইডেনের ক্রিস্টিয়ান কার্লসন, রাশিয়ার ড. আলেক্সানড্রোভিচ পোগাদাইভ, অস্ট্রিয়ার মেনফ্রেড কোবো, জার্মানির ইওনা বুরঘার্ট ও টোবিয়াস বুরঘার্ট এবং পুয়ের্তোরিকোর লুস মারিয়া লোপেজ, মারিয়া ডি লোস ও অ্যানজেলেস কামাকো রিভাস।

দ্বিতীয় পর্বে দুপুর দেড়টায় দিলারা হাফিজের সভাপতিত্বে কবিতা পাঠে অংশ নেন নিবন্ধিত কবিরা। তৃতীয় পর্বে বিকেল ৩টায় আনোয়ারা সৈয়দ হকের সভাপতিত্বে অংশ নেন অন্য ভাষার কবিরা। চতুর্থ পর্বে বিকেল ৫টায় কবি শিহাব সরকারের সভাপতিত্বে কবিতা পাঠ করেন আমন্ত্রিত কবিরা। এ ছাড়া পঞ্চম পর্বে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে ভারত থেকে আমন্ত্রিত কবিরা কবিতা পাঠ করেন। আবৃত্তি পর্বে নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারের সভাপতিত্বে রাত ৮টায় অতিথি আবৃত্তিশিল্পীরা আবৃত্তি করেন।


মন্তব্য