kalerkantho


অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী

সাহিত্যই পারে বিপথগামীদের সুপথে আনতে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সাহিত্যই পারে বিপথগামীদের সুপথে আনতে

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন-২০১৭ উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন স্টল ঘুরে বই দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

সাহিত্যচর্চাই বিপথগামী ছেলেমেয়েদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা যে আজকে বিপথে চলে যায়, এই বিপথ থেকে তাদের উদ্ধার করা যায় এই সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে। লেখাপড়া, সংস্কৃতিচর্চা যত বেশি হবে, তত বেশি তারা ভালো পথে চলে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ’

গতকাল বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সময় তিনি চার দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ২০১৭’ উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬’ বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজ পর্যন্ত যা কিছু অর্জন তা রক্ত দিয়েই অর্জন করতে হয়েছে। নিজের ভাষা, কথা বলার অধিকার, বাঙালি হিসেবে যে মর্যাদা আমরা পেয়েছি—সবই লড়াইয়ের এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই অর্জন ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে আমরা মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদেরসহ সব ষড়যন্ত্রকারীর বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন ডিজিটাল মাধ্যমে বই পড়ার অনেক সুযোগ হয়েছে। তার পরও বইয়ের পাতা উল্টে বই পড়ার মজাই আলাদা। এ কারণেই আমি চাই প্রতিবছর আরো নতুন নতুন বই ছাপা হোক এবং বর্তমান প্রজন্মের পাঠাভ্যাস গড়ে উঠুক। ’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বই পড়তে হবে। পরিবারগুলো তাদের শিশুদের বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার বিকাশে সহযোগিতা করে। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা বইপ্রেমী তাঁরা অপেক্ষায় থাকেন, কখন আমাদের এই বইমেলা শুরু হবে। এ বইমেলার মধ্য দিয়ে যাঁরা সাহিত্যচর্চা করেন তাঁদের বই প্রকাশ হয়। এটা লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের বিরাট মিলনমেলা। ’

অনুষ্ঠানে এবারের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কবিতায় আবু হাসান শাহরিয়ার, কথাসাহিত্যে শাহাদুজ্জামান, প্রবন্ধে মোর্শেদ শফিউল হাসান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাহিত্যে ড. এম এ হাসান, আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথাবিষয়ক রচনার জন্য নূরজাহান বোস, শিশুসাহিত্যে রাশেদ রউফ এবং অনুবাদে ড. নিয়াজ জামানের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত মীর মশাররফ হোসেনের অমর সৃষ্টি ‘বিষাদ সিন্ধু’র অনুবাদ ‘ওশান অব সরো’ এবং ‘হানড্রেড পোয়েমস ফ্রম বাংলাদেশ’ বই দুটি তুলে দেওয়া হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথি হিসেবে চীনের প্রখ্যাত গবেষক ও রবীন্দ্র অনুবাদক ডং ইউ চেন, অস্ট্রিয়ার মেনফ্রেড কোবো, পুয়ের্তোরিকোর মিজ লুস মারিয়া লোপেজ ও ভারতের চিন্ময় গুহ উপস্থিত ছিলেন। রামেন্দু মজুমদার অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

মেলা উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং লেখক-প্রকাশকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য