kalerkantho


বিবদমান দুই পক্ষে সংঘর্ষ আহত ২০

তিন পক্ষের সমঝোতা বাঁশখালী বিদ্যুৎকন্দ্র প্রকল্পে বাধা দূর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঁশখালীর গণ্ডামারা থেকে ফিরে   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকন্দ্র নির্মাণ নিয়ে ভূমিমালিক, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ও প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নৌবাহিনীর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা হয়েছে। গতকাল বুধবার প্রকল্প এলাকায় এক জনসভায় এই সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দূর হলো।

গত বছরের ৪ এপ্রিল বিদ্যুৎকন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছিল। তবে গতকালও উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় দুই পক্ষে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।

গণ্ডামারায় প্রকল্প কার্যালয়ে গতকাল দুপুরে এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান, নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ও প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান সমন্বয়কারী কমোডর এম সোহাইল, গণ্ডামারার বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফ উল্লাহ ও সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীর মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে তাঁরা একসঙ্গে প্রকল্প কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন এবং সমঝোতার বিষয়টি ঘোষণা করেন। চীনের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এস আলম গ্রুপ।

জনসভায় এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু বলেন, ‘প্রকল্পটি কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায় স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পটি বাঁশখালীতে স্থাপনের অনুরোধ করেন। আমরাও ভেবেছি, এখানে ২০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পটি হলে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এ অঞ্চলের মানুষেরও এই অনুরোধ ছিল আমাদের প্রতি। ’ তিনি বলেন, ‘কেবল উন্নত প্রযুক্তির কয়লা প্রকল্পই এখানে হবে না; সেসঙ্গে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হবে। এসব কিছুর অংশীদার হবে বাঁশখালীর মানুষ। এতে আপনাদের ছেলেমেয়ের জীবনমান উন্নত হবে। ’ স্থানীয় লোকজনের দাবিদাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব দাবিদাওয়া যৌক্তিকভাবে পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। ’

কমোডর এম সোহাইল বলেন, ‘গণ্ডামারার উন্নয়ন তথা বাঁশখালীর উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্প সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে। বাইরে অনেকে নানা কথা বলে। সেসব উড়ো কথায় আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। ’

গণ্ডামারা ভূমি রক্ষা কমিটির নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, এর আগে দেওয়া ১২ দফার দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করছি। সেসঙ্গে জমির ক্ষতিপূরণ ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশের এস আলম গ্রুপ চীনা দুটি প্রতিষ্ঠান সেপকো-থ্রি ও চায়না এইচটিজির সঙ্গে যৌথভাবে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষতাসম্পন্ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পে এস আলম গ্রুপ দিচ্ছে ভূমি। আর প্রকল্পের সব অর্থ আসছে চীন থেকে। আগামী চার বছরের মধ্যে এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পটির ডিজিটাল সার্ভের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চীন ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে শিগগির সয়েল টেস্ট করা হবে।

সংঘর্ষ, আহত ২০ : তিন পক্ষের সমঝোতা বৈঠক ও জনসভাকে কেন্দ্র করে গতকাল প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরই মধ্যে সমঝোতা বৈঠক চলাকালে প্রকল্প কার্যালয়ের বাইরে জনসভায় যুবলীগ নেতা নুরুল মোস্তফা সংগ্রামের সমর্থকদের সঙ্গে লিয়াকত আলীর সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। শুরুতে প্রকল্পের বিরোধিতাকারী লিয়াকত আলী হাজারখানেক সমর্থকসহ মিছিল নিয়ে শো-ডাউন দেন। ঢিল ছোড়াছুড়ির একপর্যায়ে দুপক্ষ লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ২০ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে উপজেলা সদর হাসপাতালে ১০ জনকে ভর্তি করা হয়। আর গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলী (২৭) ও মোস্তাফিজকে (৫৮) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহতরা সবাই যুবলীগ নেতা নূরুল মোস্তফা সংগ্রামের সমর্থক।

নূরুল মোস্তফা সংগ্রাম বলেন, ‘আমরাই এস আলম গ্রুপকে অনুরোধ করে পেকুয়া থেকে বিদ্যুৎকন্দ্রটি বাঁশখালীর গণ্ডামারায় নিয়ে আসি। বাপ-দাদার জমি বিদ্যুৎকন্দ্রের জন্য দিয়েছি। লিয়াকত আলী প্রকল্পের বিরোধিতা করায় এর আগেও এখানে সংঘর্ষ হয়েছে। চারজন লোক মারা গেছে। তার এই সমঝোতায় আসার কোনো অধিকার নেই। অথচ তিনি এখানে শো-ডাউন দেন এবং আমার লোকজনের ওপর হামলা করেন। অস্ত্রসহ ছয় মামলার আসামি লিয়াকত বিনা জামিনে কী করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে আবারও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালালেন সেটা আমার প্রশ্ন। ’

লিয়াকত আলী বলেন, ‘নূরুল মোস্তফা সংগ্রাম সমঝোতা চান না বলেই এখানে গণ্ডগোল করতে এসেছিলেন। তাঁর লোকজনই প্রথম হামলা চালায়। ’


মন্তব্য