kalerkantho


চেকপোস্টে ‘জঙ্গি’দের এসিড হামলা, কনস্টেবল দগ্ধ

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজন আটক,সতর্কতা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পুরান ঢাকার বাবুবাজারে তল্লাশি চৌকিতে (চেকপোস্ট) পুলিশের ওপর এসিড ছুড়ে মেরেছে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতের এ ঘটনায় রফিকুল আলম (৪৮) নামের এক কনস্টেবল দগ্ধ হয়েছেন। এসিড ছুড়ে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে আহত অবস্থায় ধরা পড়েছে জুবায়ের আলম (৩০) নামের একজন। পালিয়ে গেছে তার দুই সহযোগী।

হামলায় পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শকও (এএসআই) আহত হয়েছেন। তাঁর নাম নুরুজ্জামান। আর এসিডদগ্ধ কনস্টেবল রফিকুল আলমকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ জুবায়েরকে পুলিশ পাহারায় জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘হামলাকারীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য। এসিড নিয়ে অপারেশনে যাওয়ার পথে চেকপোস্টে পুলিশি বাধার মুখে তা ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করে তারা। আটক যুবককে চিকিৎসার পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এবিটি-সংশ্লিষ্টতার তথ্য দিয়েছে। ’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইব্রাহীম খান বলেন, ‘মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে তিন যুবক মোটরসাইকেলযোগে বাবুবাজার ব্রিজের কাছে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় চেকপোস্টে তাদের থামার সংকেত দেওয়া হয়। তারা মোটরসাইকেল না থামিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে এসিড ছুড়ে মারে। এরপর মোটরসাইকেলে করে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এ সময় জুবায়েরের পায়ে গুলি লাগে। বাকি দুজন পালিয়ে যায়। পরে দগ্ধ রফিকুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এবং জুবায়েরকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জুবায়ের এবিটি সদস্য বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তার সঙ্গীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ’ 

বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কায়কোবাদ কাজী গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘মোটরসাইকেলটির নাম্বার প্লেট কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। তা দেখে সন্দেহজনক মনে হলে মোটরসাইকেলটিকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। কিন্তু থামার পরই আরোহীদের একজন এসিড নিক্ষেপ করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় সামনে অপর একটি পুলিশ দলের চেকপোস্টে ব্যারিকেড দিয়ে হামলাকারীদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়। ব্যারিকেড ভেঙে পালানোর সময় জুুবায়েরের পায়ে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল ও এসিডের কৌটা উদ্ধার করা হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘হামলাকারী এবিটির তিন সদস্য নাশকতার উদ্দেশ্যে অপারেশন চালাতে যাচ্ছিল। জুবায়েরকে এখনো তেমন জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। ’  

পুলিশ পরিদর্শক আরো বলেন, ‘এবিটি সদস্য জুবায়েরের বাসা বংশাল এলাকায়। তার বাবার নাম আব্দুল গনি মিয়া। তারা বর্তমানে কামরাঙ্গীর চর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। লেখাপড়া করেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায়। সেখান থেকেই সে এবিটি দলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বলেছে, দুই সহযোগীও এবিটির সদস্য। তারা নতুন কৌশলে নাশকতার জন্য এসিড নিয়ে যাচ্ছিল। ’

বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রউফ বলেন, ‘জঙ্গিদের হামলায় সামান্য আহত এএসআই নুরুজ্জামানকে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কনস্টেবল রফিকুলের মুখ ও গলা মিলিয়ে শরীরের ৪ শতাংশ এসিডে দগ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ’

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পরই তাঁরা তদন্ত শুরু করেছেন। জুবায়েরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিএমপির আরেক কর্মকর্তা দাবি করেন, এবারের অমর একুশে বইমেলাকে ঘিরে এবিটির জঙ্গিদের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল, যা পুলিশের তৎপরতায় নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে তারা পুলিশের ওপর এসিড মেরেছে। তিনি আরো বলেন, চেকপোস্টে হামলার খবর শুনে কৌশল পরিবর্তন করে বিশেষভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরে চেকপোস্টে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাজধানীর গাবতলীতে চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় জঙ্গিরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে এএসআই ইব্রাহিম মোল্লাকে। একই বছরের ৪ নভেম্বর আশুলিয়ায় জঙ্গিরা হত্যা করে পুলিশ কনস্টেবল মুকুল হোসেনকে। এসব ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় রাজধানীতে পুলিশের চেকপোস্ট ও দপ্তরে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।


মন্তব্য