kalerkantho


রংপুর ও মাগুরায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর ও মাগুরা প্রতিনিধি   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রংপুর ও মাগুরায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত

রংপুর ও মাগুরায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ দুটি ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় নিহত দুজন আন্তজেলা ডাকাতদলের সদস্য। অন্যদিকে মাগুরা সদর উপজেলায় নিহত ব্যক্তি একজন সন্ত্রাসী। এ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা চেষ্টার অভিযোগে বহু মামলা রয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলো রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভিমপুর এলাকার জাকারিয়া মিয়ার ছেলে মশিউর রহমান (৩৭), রংপুর শহরের বলরামপুর এলাকার বিজেন রায়ের ছেলে বিজয় চন্দ্র ওরফে দোমাসু (২৮) ও মাগুরা সদর উপজেলার ধলহরা গুচ্ছগ্রামের মৃত সোহরাব হোসেনের ছেলে জুবান আলী শেখ (৩২)।

রংপুর : রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের লেংটিছিঁড়া সেতু এলাকায় কথিত এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গতকাল সকালে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একদল ডাকাত লেংটিছিঁড়া সেতু এলাকায় অবস্থান নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় তারাগঞ্জ ও পাশের হাইওয়ে টহল পুলিশ বিষয়টি টের পায়। তখন ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করে। ধাওয়া করলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে মশিউর ও বিজয় নিহত হয়। ডাকাতদলের অন্যরা পালিয়ে যায়।

তারাগঞ্জ থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেন, নিহত দুজনের বিরুদ্ধে তারাগঞ্জ ও রংপুর কোতোয়ালি থানাসহ বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও ডাকাতির বহু মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, মশিউরের বিরুদ্ধে রংপুর কোতোয়ালি ও তারাগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা রয়েছে। বিজয়ের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানা ও আশপাশের থানায় রয়েছে ১০টি মামলা।

মশিউরের পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন না। কোনো অপরাধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না তাও তাঁরা বলতে পারছেন না।

মাগুরা : সদর উপজেলার ধলহরা গ্রামে কথিত বন্দুকযুদ্ধে জুবান আলী নিহত হন। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি, তিনটি গুলির খোসা ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত জুবান আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতি, ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সদর থানার ওসি আজমল হুদা জানান, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে মাগুরা-বিনোদপুর সড়কে টহলকালে পুলিশ রাস্তার পাশে সরিষা ক্ষেতে কিছু মানুষকে সংঘবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। ওই সব লোকজনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য যেতে চাইলে তারা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে জুবান আলীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল দুপুর পর্যন্ত হাসপাতাল মর্গে জুবান আলীর পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। মর্গে জুবানের লাশ দেখতে আসা প্রতিবেশী মাহফুজ হোসেন জানান, একাধিক মামলার কারণে সে পলাতক ছিল। দুই দিন আগে সে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে বলে তাঁরা খবর পান।


মন্তব্য