kalerkantho


শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া চলছে

সুজনের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সাম্প্রদায়িকতামুক্ত দেশ গড়তে অসাম্প্রদায়িক পাঠ্যপুস্তকের বিকল্প নেই। একটি দেশকে ধ্বংস করতে হলে এর শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করলেই চলে। সে কাজটিই এখন হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ‘বাংলাদেশের শিক্ষাধারার গতি-প্রকৃতি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলা হয়।

বিশিষ্টজনরা বলেন, হেফাজতে ইসলাম এ সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টা করেছিল এবং খালেদা জিয়া তাদের সহায়তা করেছিলেন। সেই হেফাজতের কথায় আজকে পাঠ্যপুস্তক বদলাচ্ছে। দলমত-নির্বিশেষ সবার এর প্রতিবাদ করা উচিত।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য চিন্তার ক্ষমতা, প্রশ্ন করার ক্ষমতা ও বিকাশের ক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু এখন যে অবস্থা চলছে, তাতে বিকাশ নয়, অন্ধকারের দিকে যাচ্ছি আমরা। ’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ এন রাশেদা। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে পশ্চাৎমুখী করা হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তক নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। আর হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী বলেছেন, তাঁদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে নাকি সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে।

অধ্যাপক রাশেদা বলেন, দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার দুরবস্থা চলছে। মাদরাসা শিক্ষায় সরকারের মনোযোগ বেশি। অথচ এসব পরিচালনার কোনো নীতিমালা নেই। মাদরাসা উন্নয়নের নামে অপচয় করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চার দশক পর অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, দেশ আবার পাকিস্তানীকরণের দিকে যাচ্ছে।

ভাষাসৈনিক শরীফা খাতুন বলেন, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট যে বীজ বপন করা হয়েছিল, সেটি আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, পাঠ্যপুস্তকের ভুল শোধরানো এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধানের জন্য আলাদা কর্মসূচি নেওয়া উচিত। চরম অদক্ষ ও দুর্নীতিবাজ লোকদের হাতে পড়েছে বলেই পাঠ্যপুস্তকের আজ এ অবস্থা।

প্রতিবাদ, স্মারকলিপি : পাঠ্য বইয়ে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় বৈষম্যমূলক বিষয়ের অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে গতকাল ‘প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন’-এর ব্যানারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ। ফলে হাইকোর্টের মাজার গেটসংলগ্ন রাস্তায় কর্মসূচি শেষ করে নেতাকর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে কর্মসূচির আয়োজকরা জানান। পরে ড. সফিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দিয়ে আসে। পাঠ্য বইয়ে ভুল অমার্জনীয় অপরাধ : পাঠ্য বইয়ে ভুল ও সাম্প্রদায়িকীকরণের ঘটনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিবাদ চলছে। বিষয়টিকে অমার্জনীয় অপরাধ অভিহিত করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

গতকাল সকালে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় দীননাথ সেন রোডের সীমান্ত পাঠাগারের ৬৫ বছর ও সীমান্ত খেলাঘর আসরের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘নব আনন্দে জাগো’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।


মন্তব্য