kalerkantho


ব্র্যাকের সেমিনারে অভিমত

উৎপাদন পেরিয়ে বাণিজ্যমুখী হয়ে উঠেছে দেশের কৃষি খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা এখন আর কেবল উৎপাদনমুখী নেই, তা রীতিমতো বাণিজ্যমুখী হয়ে উঠেছে। আগে শুধু খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই কৃষি উৎপাদনের প্রয়োজন ছিল। এখন খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকছে। আর তাই রপ্তানির স্বার্থে উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সেমিনারে এ অভিমত তুলে ধরেন আলোচকরা।

গতকাল ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতের কৌশলগত বিবেচনাসমূহ’ শীর্ষক সেমিনার যৌথভাবে আয়োজন করেছিল ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ। ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন কর্মসূচির প্রধান মাহফুজার রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল ইসলাম। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের অধ্যাপক আবদুল বায়েস এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার পরামর্শক ড. এস এম ফখরুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন ব্র্যাকের ইউনিট কো-অর্ডিনেটর অ্যান্ড্রু জেনকিনস, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মোহাম্মদ ইউনুস ও পরিকল্পনা কমিশনের  সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের উপপ্রধান মনিরুল ইসলাম।

সেমিনারে বলা হয়, শিল্পায়ন ও নগরায়ণের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের মোট জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি গ্রামাঞ্চলে বাস করে এবং এখনো তারা  জীবিকার জন্য কৃষির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কৃষি খাতে চলমান নীতিমালা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে তা টেকসই দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশ এখন উদ্বৃত্ত চাল রপ্তানি করে আন্তর্জাতিক বাজারের মাধ্যমে কৃষকের আয়ের উন্নতি ঘটাতে পারে।

আলোচকরা বলেন, দেশে অকৃষি খাতের একজন শ্রমিকের তুলনায় কৃষি খাতের একজন শ্রমিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধি তিন গুণ বেশি অবদান রাখে দারিদ্র্য বিমোচনে। অন্য সব কিছু অপরিবর্তিত থাকলে কৃষি খাতে নিয়োজিত একজন শ্রমিকের আয় ১ শতাংশ বাড়লে দারিদ্র্যের হার নেমে আসবে ০.৩৯ শতাংশে। কিন্তু অকৃষি খাতে আয় ১ শতাংশ বাড়লে দারিদ্র্য কমে মাত্র ০.১১ শতাংশ।


মন্তব্য