kalerkantho


শ্রমিক নেতাদের সংবাদ সম্মেলন

মামলা-হয়রানি বন্ধ না হলে আবার আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মামলা-হয়রানি বন্ধ না হলে আবার আন্দোলন

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতির জেরে মামলা, ধরপাকড়, হামলা-নির্যাতনের ঘটনা এখনো ঘটছে। শ্রমিক নেতারা বলেছেন, এসব বন্ধ না হলে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি আবার আন্দোলন-কর্মসূচি শুরু হবে।

গত ডিসেম্বরে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আশুলিয়া ও আশপাশের পোশাক কারখানায় কর্মবিরতি পালন করে শ্রমিকরা। এর জের এখনো চলছে। পরিস্থিতি তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আইবিসি চেয়ারম্যান আমিরুল হক আমিন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইবিসি মহাসচিব কুতুবুদ্দিন আহমেদ। তাঁরা বলেন, হামলা-মামলা বন্ধ না হলে, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল না করা হলে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইবিসির সাবেক মহাসচিব রয় রমেশ চন্দ্র, বিজিআইডাব্লিউএফের সভাপতি বাবুল আখতার, শ্রমিক নেতা বদরুদ্দোজা নিজাম, মো. শহীদুল্লাহ বাদল ও মো. তৌহিদুর রহমান।

আইবিসি বাংলাদেশের ২৩টি শিল্প শ্রমিক সংগঠনের একটি প্লাটফর্ম। এটি জেনেভাভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১১ ডিসেম্বর আশুলিয়ার পোশাক কারখানায় শুরু হয় কর্মবিরতি। এর জেরে এখনো হামলা-মামলা, ধরপাকড়, নির্যাতন চলছে। এসব ঘটনা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। সমস্যা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে যেকোনো সময় ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে।

আরো বলা হয়, আইবিসি প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে। কিন্তু মালিকরা মজুরি বাড়ানোর আন্দোলনকে দমন করতে আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন, শ্রমিকদের নিপীড়ন করছেন। আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের রিমান্ডে নিচ্ছে পুলিশি। আশুলিয়ায় শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে পুলিশ তালা দিচ্ছে।

নির্যাতন-হয়রানি বন্ধের দাবিতে ইতিমধ্যে ক্রেতারা এবং তাঁদের জোট প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। কিন্তু সরকার ও বিজিএমইএ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

বক্তারা বলেন, মজুরি বাড়ানোর আন্দোলনের কারণে এ পর্যন্ত ২৭ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৮টি কারখানা থেকে দুই হাজার ৬০০ শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের ১৪টি ফেডারেশনের শাখা কার্যালয়ে তালা দিয়েছে পুলিশ। কারখানা মালিক ও প্রশাসনের চাপে শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারছে না।

এনবিআরের মাধ্যমে ছয়জন শ্রমিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের নিন্দা করে শ্রমিক নেতারা বলেন, তাঁদের চরিত্র হনন করার জন্য বিজিএমইএ এ কাজ করাচ্ছে। অথচ মালিকরা শ্রমিকদের ভুখা রেখে আমেরিকা, কানাডা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে সেকেন্ড হোম আর বেগমপাড়া বানাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নিরপেক্ষ ব্যবহার আশা করে শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার বলেন, বিজিএমইএ প্রধানমন্ত্রীকে ভুল ধারণা দিচ্ছে। কলকারখানা থাকলে শ্রমবিরোধও থাকবে। যদি মালিকরা মনে করেন কর্মবিরতি অবৈধ, তাহলে তাঁরা মামলা করতে পারেন শ্রম আদালতে। কিন্তু তাঁরা থানায় গিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করছেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং শ্রম মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আন্দোলন-কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে বলে জানানো হয়।


মন্তব্য