kalerkantho

26th march banner

সড়কে দুমড়ানো প্রাইভেট কার, তিনজনের মৃত্যু

বরিশাল অফিস   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে প্রাইভেট কার। সেই কারের ভেতরে চালকসহ তিন আরোহী। দুজন মৃত, অন্যজনের অবস্থা মুমূর্ষু। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

উদ্ধারকাজের ফাঁকে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ দুটি উদ্ধার করে। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে কামিনি ফিলিং স্টেশনের পাশে পাওয়া গেছে দুমড়ানো প্রাইভেট কারটি। প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় পুলিশ দুর্ঘটনার ব্যাপারে এখনো অন্ধকারে।  

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন বরিশাল নগরের সাগরদী এলাকার ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেন (৩৬), বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের মনীন্দ্র চন্দ্র মালির ছেলে সমীর চন্দ্র মালি (৩৫) ও হিজলা উপজেলার বাহেরচর গ্রামের কাদের ঢালীর ছেলে বরিশাল শহরের সদর রোডের অনামিল লেনের একটি বাসার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা বশির আহমেদ ঢালী (৪৭)।

প্রাইভেট কারে থাকা আরো এক আরোহী আহত হয়েছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন। তবে ওই আরোহীর পরিচয় কিংবা অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ এখনো কোনো তথ্য পায়নি।

বরিশাল নগরের বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাঈনুল ইসলাম জানান, প্রাইভেট কারে চালকসহ চার আরোহী ছিলেন। তাঁরা বরিশালের দিকে আসছিলেন। মঙ্গলবার ভোরের দিকে কামিনী ফিলিং স্টেশনের কাছে সড়কের পাশে দুর্ঘটনায় পড়ে তাঁদের গাড়ি। এতে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বশির ও সমীর নিহত হন। আহত অবস্থায় মনিরকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টায় মারা যায়। এ ছাড়া স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় অন্য এক আরোহীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, সমীর সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাড়িটি নিয়ে ফরিদপুর যান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাতের কোনো একসময় গাড়িটি দুর্ঘটনার স্বীকার হয়। ফজরের নামজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই গাড়িতে গোঙ্গানীর শব্দ শুনতে পায় এবং হতাহতদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করে।

প্রাইভেট কারটির মালিক বরিশাল মহাশ্মান রক্ষা কমিটির সাবেক সভাপতি মানিক মুখার্জি ওরফে কুডু মুখার্জি। গাড়িটি চালাতেন সমীর মালি। তিনি জানান, গাড়িটি তাঁর স্ত্রী ব্যবহার করতেন। সোমবার বিকেলে গাড়ির চালক সমীর তাঁর বোন-ভগ্নিপতিকে নিয়ে গোপালগঞ্জে বেড়াতে যাবে বলে গাড়িটি নিয়ে যায়। রাতে সমীরের মোবাইল ফোনে ফোন করে বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে তিনি দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে পারেন।

সমীরের বোনজামাই নিত্যনন্দ মালি কালের কণ্ঠকে জানান, সোমবার রাতে ফরিদপুরে একটি ট্রিপে যাবে বলে সমীর তাঁদের জানিয়েছিলেন। দুপুরের পর তাঁর সঙ্গে আর তাঁদের কথা হয়নি।

বিমানবন্দর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। গাড়িতে থাকা অন্য একজন আরোহীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁকে পাওয়া গেলেই তাঁরা চারজন কোথায়, কেন গিয়েছিলেন, কিভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল সেটা পাওয়া যাবে।


মন্তব্য