kalerkantho


জায়গা দখলের জের

রাজশাহীতে বিজিবি ও কারা কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



লিজ নেওয়া জমির দখলের জের ধরে রাজশাহীতে কারা কর্তৃপক্ষ ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষই সমঝোতা বৈঠকে বসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর আগে গত বছরের ৭ আগস্ট একই জায়গার দখল নিয়ে বিজিবি ও কারা পুলিশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পেছনে পদ্মা নদীর বাঁধের নিচে কারা কর্তৃপক্ষের লিজকৃত জায়গা রয়েছে। তবে ওই জায়গায় সম্প্রতি বিজিবি রাজশাহী সেক্টর সদর দপ্তরের উদ্যোগে সীমান্ত সম্মেলন নামে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনের নেতৃত্বে ওই জায়গার দখল নিতে যাওয়া হয়। এ সময় বাধা দেন বিবিজির সদস্যরা। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাজপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

বিষয়টি বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরের জিটু মেজর সরওয়ার হোসেন ও সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন আলোচনায় বসেন। শেষ পর্যন্ত বিজিবির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবার আলোচনা হবে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটি পরবর্তী সময় মেনে নেওয়া হবে। আপাতত বিজিবির দখল করা জায়গায় নির্মিত ভবনটির দখল বিজিবিরই থাকবে। তবে ওই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন।

সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ পদ্মার তীরে ২০৮ শতাংশ জমি জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে লিজ গ্রহণ করে ১৮৫ বছর আগে। সেই থেকে কারা কর্তৃপক্ষ ওই জায়গার খাজনা দিয়ে আসছে সরকারকে। এরই মধ্যে সেখানে কারা একাডেমি করারও পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু তার একটি অংশ দখল করে বিজিবি রেস্টুরেন্টের (ফাস্টফুড) জন্য দোতলা একটি ভবন নির্মাণ করেছে। গত ২২ জানুয়ারি উচ্চ আদালত বিজিবি ওই ভবন নির্মাণ করতে পারবে না বলে রায় দিয়েছেন।


মন্তব্য