kalerkantho


স্কুল ছাত্র বিভোর হত্যা

‘খুনি’সহ দুজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘খুনি’সহ দুজন গ্রেপ্তার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে স্কুল ছাত্র রেদওয়ান ইসলাম বিভোর খুনের ঘটনায় স্থানীয় সন্ত্রাসী আল-আমিন ও তার ছোট ভাই আরমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডেমরা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) ইফতেখারুল ইসলাম।

বিভোর হত্যাকাণ্ডের পর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি আরমান। একই মামলায় এ দুজনের বাবা আবদুল মান্নানকেও আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এরা যাত্রাবাড়ী এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

আল-আমিন জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, বিভোরের বাবা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাদের পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ কারণে সে বিভোরকে হত্যা করেছে। তবে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কেবল জমিসংক্রান্ত বিরোধই একমাত্র কারণ নয় বলে মনে করছে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মাদকসেবী আল-আমিন এলাকার উঠতি সন্ত্রাসী। সে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ওই এলাকার ছিনতাইকারীচক্রেরও হোতা। সব সময় সঙ্গে ধারালো ছুরি রাখত।

কারো সঙ্গে কোনো বিষয়ে সামান্য বিরোধ বাধলেই ছুরি বের করে ভয় দেখাত। ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর সে জামিনে ছিল। ছোট ভাই আরমান এবং তাদের বাবা আবদুল মান্নানও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত।

জানা গেছে, যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগে আল-আমিনদের জমি ছিল। নিহত বিভোরের বাবা নজরুল ইসলাম কয়েক মাস আগে ওই জমি আল-আমিনের পরিবারের কাছ থেকে কিনে নিয়ে সেখানে একটি পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়ি করার সময় নজরুল ইসলামের কাছে আল-আমিন পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। সেই টাকা না পেয়ে সে শিশু বিভোরকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলার তদারক কর্মকর্তা এসি ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণেই ওই শিশুকে খুন করা হয়নি। আল-আমিন মাঝেমধ্যেই ওই শিশুর বাবার কাছে চাঁদা দাবি করত। টাকা না দেওয়ায় সে নজরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের লোকজনের ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছিল। ’

পুলিশ জানায়, বিভোরকে হত্যার পর আল-আমিন পালিয়ে যায়। উদ্দেশ্য ছিল দিনাজপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গাঢাকা দেওয়ার। তবে ঘটনার পর থেকেই আল-আমিনকে ধরতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নজরদারি বাড়ানো হয়। একপর্যায় সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে পুলিশের চেকপোস্টে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার বিকেলে গোলাপবাগে বাসার কাছে খেলতে থাকা রেদওয়ান ইসলাম বিভোরকে অনেকটা প্রকাশ্যেই ছুরি মেরে হত্যা করে পালিয়ে যায় খুনি। নিহত বিভোর নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। সন্তান হারিয়ে বাবা নজরুল ইসলাম ও মা রিনা ইসলাম শোকে পাগলপ্রায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আল-আমিন শিশুটিকে ছুরি মেরে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য স্থানীয় অনেকেই দেখেছে। এ ঘটনায় আল-আমিন, তার ছোট ভাই আরমান ও বাবা আবদুল মান্নানকে আসামি করে শিশুটির পরিবার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করে। পলাতক আবদুল মান্নানকে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিসুর রহমান।


মন্তব্য