kalerkantho


গুলশানে ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড

ধ্বংসস্তূপ অপসারণে সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ধ্বংসস্তূপ অপসারণে সেনাবাহিনী

রাজধানীর গুলশানে অগ্নিকাণ্ডে ধসে পড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মার্কেটের ধ্বংসস্তূপ অপসারণে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল। সেনাবাহিনীর ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার্স ব্রিগেডের ৩০ সদস্যের একটি দল মেজর জিয়া উদ্দিনের নেতৃত্বে কার্যক্রম শুরু করেছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একটি টিম ধ্বংসস্তূপ অপসারণে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ডিএনসিসি ও সেনাবাহিনীর যৌথ চেষ্টায় আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত ২ জানুয়ারি সোমবার রাতে গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার এক দিন পর ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ শুরু করে ডিএনসিসি। শুরু থেকে ডিএনসিসিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। ডিএনসিসির নিজস্ব সক্ষমতা দিয়ে ধ্বংসস্তূপ অপসারণ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছিল। এ কারণে সেনাবাহিনী ও রাজউকের সহযোগিতা চেয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এরপর ডিএনসিসির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনীর একটি দল।

বুধবার গিয়ে দেখা গেছে, ডিএনসিসির পক্ষে ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী লে. কর্নেল সাবের সুলতান। আর সেনাবাহিনীর পক্ষে মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ অপসারণকাজের সমন্বয় করছেন।

তবে বুধবার শেষ বিকেল পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের ক্যাম্প স্থাপনের কাজ করতে দেখা গেছে।

ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিএনসিসি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এক হয়ে কাজ করবেন। সে ক্ষেত্রে ডিএনসিসিতে প্রেষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো সেনা কর্মকর্তাকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে ধসে পড়া ভবনের প্রায় ২৫ শতাংশ ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলেছে ডিএনসিসি। ময়লাবাহী গাড়িতে করে ধ্বংসস্তূপের আবর্জনা আমিনবাজারে ডিএনসিসির ল্যান্ডফিল্ডে ফেলা হচ্ছে। তবে গুলশান বা আশপাশের এলাকায় ধ্বংসস্তূপের আবর্জনা রাখার বিকল্প জায়গা খুঁজছে ডিএনসিসি। এটা বের করতে পারলে ধ্বংসস্তূপের আবর্জনা অপসারণের গতি বৃদ্ধি পাবে।

গতকাল দেখা যায়, গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেটের পার্কিং স্পেসের ২৫-৩০টি বাঁশের কাঠামোর দোকান তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মার্কেটের সিঁড়ি বরাবর নিচের খালি জায়গায় স্টিলের স্ট্রাকচারের কিছু দোকান তৈরি করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এ ছাড়া ধসে পড়া মার্কেটের ধ্বংসস্তূপ অপসারণ করে সেখানেও শতাধিক সাময়িক দোকান তৈরি করে দেওয়া হবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অস্থায়ী দোকান বুঝিয়ে দেওয়া যাবে বলে আশা করছেন ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেটের পশ্চিম পাশের গলিতে বুধবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মালামাল নিয়ে বসতে দেখা গেছে।


মন্তব্য