kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিরাপদ সড়ক দিবস আজ

মালিক-চালক কেউই আইন মানেন না

পার্থ সারথি দাস   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আইনে মোটরযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়া ও দিনে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও ৩৪ বছর ধরে পরিবহন মালিকরা তা মানছেন না। মাসিক বেতন না থাকায় প্রায় ৯৫ শতাংশ চালকই রোজগারের জন্য দিনে আট ঘণ্টার বদলে ১৪ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

দৈনিক ট্রিপনির্ভর বেতন হওয়ায় বাড়তি আয়ের জন্য স্থানে স্থানে যাত্রী তোলেন তাঁরা। বিশ্রাম না নিয়ে, নির্ঘুম কাটিয়ে আয় করা বাড়তি টাকার পুরোটা অবশ্য তাঁরা ঘরে নিতে পারেন না। মালিক ছাড়াও এর ভাগ দিতে হয় পুলিশ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের।

চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালাতে বাধ্য করা, শর্ত ছাড়া চাকরি দিতে লাইসেন্সহীন চালক নিয়োগ দেওয়া, ফিটনেস ও রুট পারমিটহীন গাড়ি চালানোর জন্য বড় দাগে মালিকরাই দায়ী। আর মালিকদের একগুঁয়ে ও আধিপত্যবাদী আচরণেই দেশের সড়ক-মহাসড়কে বিপুল প্রাণ ঝরে যাচ্ছে।

ক্ষতি জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) হিসাবে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার মাত্র ১৯ শতাংশের রেকর্ড থাকছে। দুর্ঘটনায় মামলা না করা ও পুলিশের অবহেলায় পুরো তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দায়ের করা মামলা ধরে সরকারি হিসাবে গত বছর সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছিল দুই হাজার ৩৯৪টি, তাতে প্রাণ গেছে দুই হাজার ৩৭৬ জনের। এ বছরের জানুয়ারি থেকে গত জুলাই পর্যন্ত এক হাজার ৪৮৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে এক হাজার ৪২২ জন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সালের হিসাবে, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২১ হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে তা বছরে ১২ হাজার। যুক্তরাজ্য সরকারের বৈদেশিক উন্নয়ন সংস্থা (ডিএফআইডি) ২০০৪ সালের জরিপে বলেছিল, সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ১.৬ শতাংশ ক্ষতি হয়। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ।

৪৩ শতাংশ দুর্ঘটনায় পথচারীরা আঘাতপ্রাপ্ত : বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময়ে প্রায় ৭০০ সড়ক দুর্ঘটনার ৭৪ শতাংশ ঘটেছে ঢাকা মহানগরে। ৪৩ শতাংশ দুর্ঘটনায় পথচারীরা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

বড় কারণ বেপরোয়া গাড়ি চালানো : বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাবে, গত ৭ সেপ্টেম্বর ঈদযাত্রা শুরুর দিন থেকে শুরু করে ১৮ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত ১২ দিনে ১৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৮ জন নিহত হন। দুর্ঘটনার পেছনে সমিতির চিহ্নিত করা ২০ কারণের মধ্যে প্রথমেই আছে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো। এর পরই আছে বিপজ্জনক ওভারটেকিং। এ ছাড়া চালকের বেপরোয়া মনোভাব, প্রশিক্ষণহীন অদক্ষ চালক এবং অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করাও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

গত আগস্ট পর্যন্ত বিআরটিএতে নিবন্ধিত হয়েছে ২০ ধরনের ২৭ লাখ ১৩ হাজার ২৯৪টি গাড়ি। একই সংস্থা থেকে এ যাবৎ গাড়ি চালানোর জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ২৫৯ জনকে। তাতে দেখা যায়, আট লাখ ৪৯ হাজার ৩৫টি গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বৈধ চালক কম রয়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে একটি গাড়ি চালাতে কমপক্ষে দুজন চালকের দরকার হয়। অনেক ক্ষেত্রে একটি গাড়িই চালান তিন থেকে চারজন চালক। তা হিসাবে ধরলে বৈধ লাইসেন্সহীন চালক আরো বেশি। গাড়ির মালিকরাই লাইসেন্সহীন বা অবৈধ লাইসেন্সধারী চালকদের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দেন।

দেশে নিবন্ধিত বিভিন্ন ধরনের গাড়ির মধ্যে প্রায় তিন লাখের প্রকৃতপক্ষে ফিটনেস নেই। এর মধ্যে প্রায় ৬৭ হাজার গাড়ি ১০ বছর বা এরও বেশি সময় ধরে ফিটনেস পরীক্ষা তো দূরের কথা, কোথায় চালানো হচ্ছে তা জানাচ্ছে না বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে। এসব গাড়ির নিবন্ধন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের ফিটনেসহীন গাড়িতেও সড়কে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে বেসরকারি হিসাবে মোটরযান শ্রমিক আছে ৭০ লাখ। এর মধ্যে আছেন চালক, সহকারী চালক, কন্ডাক্টর, মিস্ত্রি। ৭০ লাখের মধ্যে কমপক্ষে ৩০ লাখ গাড়ি চালানোর সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাঁদের সবার বৈধ লাইসেন্স নেই। ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চুক্তির পর শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়ার বিষয়ে আইনও হয়েছিল। তবে শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও মালিকরা নিয়োগপত্র না দিয়েই তাঁদের দিয়ে গাড়ি চালিয়ে নিচ্ছেন। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে নীরব।

ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথ এবং টার্মিনালে দূরপাল্লার ও লোকাল গাড়ি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দূরপাল্লার হাতে গোনা কয়েকটি বাস কম্পানি মাসিক ভিত্তিতে চালকদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। বেসরকারি হিসাবে, ৯৫ শতাংশ মালিকই নিয়োগপত্র দিচ্ছেন না, এমনকি খোরাকিও দিচ্ছেন না। চালকদের উল্টো ট্রিপনির্ভর করে তুলছেন গাড়ি চালনায়। এতে কম সময়ে বেশি ট্রিপ দিতে তাঁরা বেশি গতিতে ও ওভারটেক করে গাড়ি চালাচ্ছেন। শ্রমিক নেতা ওসমান আলী বলেন, মহাসড়কে ও স্থানীয় সড়কে একই অবস্থা।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আগারগাঁও ডাম্পিং স্টেশনের কাছে জাবালে নূর পরিবহনের টার্মিনালে গেলে সেখানকার চালকরা জানান, তাঁদের মাসিক কোনো বেতন নেই। রাস্তা থেকে দাঁড় করিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী তুললে বাড়তি আয়ে তাঁদের জীবন চলে। চালকদের একজন মধ্যবয়সী সাইফুল ইসলাম গাড়ির মেকানিক থেকে বছরদশেক আগে গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেন। চালক হিসেবে কোনো গাড়িতেই ছয় মাসের বেশি চাকরি টেকেনি। ঢাকার রাস্তায় চালিয়েছেন বিহঙ্গ, শিকড়, বসুমতি, তেঁতুলিয়া, মধুমতিসহ বিভিন্ন পরিবহন কম্পানির বাস। তিন মাস ধরে চালাচ্ছেন জাবালে নূর পরিবহনের বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৮৯২৭)। ১০ বছরে কোনো মালিকই তাঁকে চালক হিসেবে নিয়োগপত্র দেননি। সাইফুল বলেন, ঢাকার সব রুটের বাসেই ট্রিপপ্রতি বেতন দেওয়া হয়। কোনো পথে গাড়ির আসা ও যাওয়াকে এক ট্রিপ ধরা হয়। এক ট্রিপে তিনি পান ১৪০ টাকা। তাঁর সহকারী ট্রিপপ্রতি পান ৮০ টাকা। দিনে পাঁচটি ট্রিপ হয়। তাতে তিনি নিজে পান ৭২০ টাকা। এতে পোষায় না বলে রাস্তা থেকে ‘লোকাল’ যাত্রী তোলেন। সাইফুল বলেন, ‘রাস্তা থেকে বাস থামিয়ে বেশি যাত্রী ওঠাতে পারলে দিনে ১০০-১৫০ টাকা বেশি পাই। ভাড়া থেকে দিনে ১০ হাজার টাকার বেশি আয় হলে ৫০০ টাকা বোনাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্যান্য সুবিধা নেই। ’

জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসের মালিক জাকির বলেন, কম্পানির সব গাড়িতেই ট্রিপপ্রতি চালকের বেতন দেওয়া হচ্ছে। জাবালে নূর পরিবহন কম্পানির কার্যালয় টার্মিনালের পাশেই ৬০, পশ্চিম আগারগাঁওয়ে। কম্পানির চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করে বাছাই করে চালক নিয়োগ দেয় কম্পানি। কম্পানির পক্ষ থেকে চালকদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ঢাকা শহরে ৪২টি কম্পানির বাসে চালক, তাঁদের সহকারী ও কন্ডাক্টরদের বেতন দেওয়া হয় দৈনিক ট্রিপ ভিত্তিতে। এতে বেশি ট্রিপ দিয়ে বেশি আয় করতে চালকরা স্থানে স্থানে যাত্রী তোলেন, নামান। ঢাকা মহানগরীতে ২০০টি বাস থামার স্থান আছে। তবে এসব স্থানে বাস না থামিয়ে পুরো রুটের স্থানে স্থানে বাস থামিয়ে, এমনকি চলন্ত অবস্থায় যাত্রী তোলা হয়। মোহাম্মদপুর থেকে নতুনবাজার পথে চলাচল করে তরঙ্গ পরিবহনের ১৫টি বাস। চলতে চলতে কোনো সময় বিকল হয়ে পড়ে কোনোটি। গত বৃহস্পতিবার সকালে মোহাম্মদপুর থেকে নতুন বাজারের দিকে যাওয়ার পথে তরঙ্গ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-১৮৭৯) ৬০ জন যাত্রী নিয়ে মহাখালী উড়াল সেতুর আগে বিএফ শাহীন কলেজের আগে বিকল হয়ে পড়ে। বাসটি আটক করেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সুজা চৌধুরী। দুপুর সাড়ে ১২টায় মহাখালী উড়াল সেতুতে ওঠার আগে রাস্তার বাঁ পাশে অচল বাসটি দেখে সেখানে গিয়ে জানা গেল, বাসটির ফিটনেস সনদ নেই। চালানো হচ্ছিল বেপরোয়াভাবে। গত ২২ সেপ্টেম্বর আসাদ গেটে বাসটির মালিকের বিরুদ্ধে ফিটনেসের কাগজপত্র না থাকায় মামলা করে ট্রাফিক পুলিশ। বাসচালক সুমন জানান, ১১ বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন। বরিশাল সদরের রাস্তায় গাড়ি চালাতে চালাতে এখন ঢাকার রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন। দেড় বছর লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালিয়েছেন। তরঙ্গ পরিবহনের বাসটি ছয় মাস ধরে চালাচ্ছেন। তাঁর মাসিক বেতন নেই। ট্রিপপ্রতি ২০০ টাকা দেওয়া হয়। ভোর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গাড়ি চালাতে হয়। বাসটির মালিক সোবহান কালের কণ্ঠকে বলেন, চালকরা টানা কয়েক বছর চাকরি করতে চান না। তাই স্থায়ীভাবে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয় না।

কুড়িল থেকে নবীনগর রুটে চলাচল করে আশুলিয়া ক্লাসিক পরিবহনের বাসগুলো। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০০২১) কুড়িলে দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছিল। চালক শাহাদাত নিজেই যাত্রীদের ডাকছিলেন। চালকের আসনে বসে গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে ছিলেন চালকের সহকারী বিল্লাল। শাহাদাতের কাছে গাড়ি চালানোর কোনো লাইসেন্স পাওয়া গেল না। তিনি জানান, এক বছর আগে মানিব্যাগসহ লাইসেন্স হারিয়ে গেছে। তাঁর বাসের মালিক সাভারের ঘোষবাগের আনোয়ার। তাঁকে কিংবা তাঁর সহকারীকে কোনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি মালিক বা কম্পানির পক্ষ থেকে। মালিককে প্রতিদিন আড়াই হাজার টাকা দিতে হয়। এরপর যা থাকে তা থেকে ভাগ করে নেন তিনি ও তাঁর সহকারী। এ জন্য ট্রিপ বেশি দিতে, রাস্তা থেকে যাত্রী তুলতে ব্যস্ত থাকতে হয় দিনরাত। শাহাদাত ও বিল্লাল জানান, সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা শ্রম দেওয়ার নিয়মের কথা তাঁরা জানেন। তবে তাঁদের গাড়ি চালাতে হয় ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা।

রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বর সেকশনের কমিশনার রোডে গতকাল শুক্রবার দুপুরে অছিম পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১৮৩২৪) বাঁদিকের চাকা মেরামত করা হচ্ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাসটির মালিক রিফাত হোসেন ও চালক জসীম উদ্দিন। জসীম বলেন, এক মাস ধরে বাসটি চালাচ্ছেন। এরশাদ সরকারের সময় থেকে গাড়ি চালানো শুরু করেছিলেন, তবে কেউ তাঁকে নিয়োগপত্র দেননি।

কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না জানতে চাইলে মালিক রিফাত বলেন, এটা অস্থায়ী চাকরি। রুট লম্বা ও ট্রিপ কম হলে দৈনিক বেতন দেওয়া হয় বেশি। আর রুট দূরত্বের দিক দিয়ে ছোট হলে কম হারে বেতন দেওয়া হয়। এটাই চলে আসছে। অছিম পরিবহন গাবতলী থেকে বাড্ডা-রামপুরা হয়ে ডেমরা স্টাফ রোড পর্যন্ত চলাচল করে। দৈনিক ৪০০ টাকা পান এবং তিনটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হয় বলে জানান জসীম। জসীম মালিকের সামনে দাবি করেন, তাঁকে ১০০ টাকা খোরাকি দেওয়া হয়।

নিয়োগপত্র কেন দেওয়া হয় না জানতে চাইলে চালক ও পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানান, ১৫ দিন বা ২০ দিন গাড়ি চালানোর জন্যও চালকদের পুরো মাসের বেতন দিতে হবে। প্রতি ট্রিপে গাড়ির মালিকরা বেশি হারে জমা নিতে পারবেন না, একজন চালকের সঠিক বেতন উল্লেখ করতে হবে, গাড়ি চললে বা না চললেও প্রতিদিন খাবারের টাকা বা খোরাকি দিতে হবে, দুর্ঘটনায় পড়লে তাঁর পরিবারের খরচ ও চিকিৎসার খরচ দিতে হবে, কোনো কারণে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে থাকলে বা গাড়ি রাস্তায় না চললেও চালকদের বেতন দিতে হবে, উৎসব বোনাস দিতে হবে—এসব বাধ্যবাধকতায় পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেতে মালিকরা নিয়োগপত্র দেন না। নিয়োগপত্র দেওয়া হলে ওভারটাইম সুবিধাদি ছাড়া শ্রমিকদের কাজ করানো যায় না।

বুয়েটের নগর ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ভালো চালক নিয়োগ দেওয়া, চলাচলের উপযুক্ত গাড়ি রাস্তায় নামানো—এ ধরনের দায়িত্ব মালিকরা এড়িয়ে যান। চালকরা ট্রিপমুখী হয়ে রাস্তা না দেখে যাত্রী দেখে গাড়ি চালান। এ কারণে সড়কে নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই।


মন্তব্য