kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শুরু হলো গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শুরু হলো গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে বেড়ে গেল ভিড়। কানায় কানায় পূর্ণ মিলনায়তন।

বেজে ওঠে সুর। ‘টাকডুম টাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল’ গানের সঙ্গে সঙ্গে ঢোল হাতে নৃত্যশিল্পীদের আগমন মঞ্চে। নৃত্যের মাঝে তরুণীদের দল মঙ্গলপ্রদীপ হাতে নিয়ে উঠে এলো মঞ্চে। এ যেন শিল্পে আলোকিত সন্ধ্যা। নৃত্যের তালে তালে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এভাবেই গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্বোধন হলো পঞ্চমবারের ‘গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব-২০১৬’।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে এ উৎসবের। এবারের উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে সদ্যপ্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। নাট্যশালা মিলনায়তনে ছিল উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক জয়শ্রী কুণ্ডু, বিশ্ব আইটিআইয়ের সম্মানিত সভাপতি নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কথাশিল্পী আনোয়ারা সৈয়দ হক, তাঁর পুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হক, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাট্যজন ঝুনা চৌধুরী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।

স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসব পর্ষদের সদস্যসচিব আকতারুজ্জামান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উৎসব পর্ষদের সদস্য মীর জাহিদ হাসান। সভাপতিত্ব করেন গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ।

উৎসব উদ্বোধন করে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশেরই সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী ধারা নাটক, উৎসবের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় হবে সবার। এ উৎসবের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব আরো নিবিড় হবে।

উৎসবটি সদ্যপ্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকে উৎসর্গ করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তাঁর স্ত্রী কথাশিল্পী আনোয়ারা সৈয়দ হক।

আয়োজকরা জানান, আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী চলবে এ উৎসব। তাতে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন, পরীক্ষণ থিয়েটার হল, স্টুডিও থিয়েটার হল এবং নৃত্য ও সংগীত মিলনায়তনে নাটক মঞ্চস্থ হবে। অংশ নেবে ভারতের তিনটি, ঢাকার ২৫টি ও ঢাকার বাইরের দুটি নাট্যদলসহ মোট ৩০টি নাট্যদলের মঞ্চ নাটক। উন্মুক্ত মঞ্চের সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হবে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। আর মঞ্চ নাটক শুরু হবে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায়।

গতকাল উদ্বোধনী সন্ধ্যায় মূল হলে মঞ্চস্থ হয় ভারতের হ-য-ব-র-ল নাট্যদলের নাটক ‘ঈপ্সা’, পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রাঙ্গণেমোরের ‘ঈর্ষা’ এবং স্টুডিও থিয়েটার হলে কণ্ঠশীলনের ‘যা নেই ভারতে’।

এই উৎসবে সহযোগিতা করছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।


মন্তব্য