kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভারতের কংগ্রেস নেতাদের সাক্ষাৎ

সন্ত্রাস নির্মূলে দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সন্ত্রাস নির্মূলে দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে আসা ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি : পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, এ দুটি দানব নির্মূলে যেকোনো মূল্যে অস্ত্র ও অর্থের উৎস বন্ধ করতে হবে। অন্য দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করতে না দেওয়ার তাঁর সরকারের অবস্থানের কথাও পুনরুল্লেখ করেন তিনি।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানান।

ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী আজাদ। প্রতিনিধিদলে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় এমপিও রয়েছেন। আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে যোগদান করতে তাঁরা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

ভারতের রাজ্যসভায় বিরোধী দলের নেতা গোলাম নবী আজাদ সন্ত্রাস দমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ইস্যুটি আপনি সাফল্যের সঙ্গে সামাল দিয়েছেন। এ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। ’

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে এখন একটি গতিশীল অর্থনীতির দেশ। গোলাম নবী ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্মশত বার্ষিকী পালন বিষয়ে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। চিঠিতে ইন্দিরা গান্ধীর ওপর একটি লেখা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয়।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের বর্ণনা দিয়ে কংগ্রেস নেতা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত অভিন্ন ইতিহাসের অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সরকার ও জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতার কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সঙ্গে দেশের এবং দলের সঙ্গে দলের চমত্কার সম্পর্ক বিরাজ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করা। তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ’

সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, কাজী নাবিল আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ : এর আগে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক ভাইস মিনিস্টার ও সে দেশের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ঝেং জিয়াওসং।

এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য