kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইয়াবা-টাকার বস্তা রহস্যের জট খুলতে পারেনি পুলিশ

‘আটক’ নারী বাড়ি ফিরেছেন

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ‘গোয়েন্দা পুলিশের’ নামে ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও বস্তাভর্তি টাকা ‘জব্দের’ রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এরই মধ্যে রনি আক্তার নামের যে নারীকে আটক করে নিতে এলাকাবাসী দেখেছিল, সেই রনি আক্তার গত বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরেছেন।

অভিযানকালে পালিয়ে যাওয়া আলমগীর ওরফে ডবল্ল্যাও ফিরে এসেছেন। এখন রনি আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধারের ঘটনা এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা। তিনি বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে জেনেছি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে অভিযানে ইয়াবা ও টাকা জব্দের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন ইউনিট এ অভিযান চালিয়েছে সেটা এখনো বের করতে পারিনি। আমি কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করেছি। কিন্তু পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারিনি। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রনি আক্তার নামের যে নারীকে আটক করে নেওয়ার তথ্য এলাকাবাসী জানিয়েছিল, সেই নারী ফিরে এসেছেন। এখন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা করবে পুলিশ। ’

রনি আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আলমগীর ওরফে ডবল্ল্যাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গহিরা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। তবে এর আগেই তাঁরা বাড়ি থেকে সরে যান। তবে এ অভিযান চালাতে গিয়ে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছে বেশ কিছু ইয়াবাও পাওয়া গেছে। তবে তাঁর কাছ থেকে কী পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হয়, তা গণনার পর জানানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এম এমরান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীর মোটরসাইকেলযোগে ইয়াবা পাচার করে। তার মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে আরো ইয়াবা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ’

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত এই জাহাঙ্গীর র‌্যাবের তালিকাভুক্ত ইয়াবা পাচারকারী বলে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরী থেকে এনার্জি বাল্বের আড়ালে ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে ঢাকায় ইয়াবা পাচারকালে ৯০ হাজার বড়ি ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব। ওই অভিযানের বিষয়ে অনুসন্ধানে র‌্যাব-৭ জানতে পারে, ইয়াবাগুলোর মালিক ছিলেন পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম। আর সেলিম চেয়ারম্যানকে ইয়াবাগুলো সরবরাহ করেছিলেন আনোয়ারা উপজেলার গহিরা এলাকার জাহাঙ্গীর। তাঁরা দুজনসহ ওই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নগরীর সদরঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। আনোয়ারা থানার পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর সদরঘাট থানার মামলারও আসামি।

স্থানীয় লোকজন জানায়, অভিযানের একপর্যায়ে কথিত গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাতকড়াসহ পালিয়ে গিয়েছিলেন আলমগীর ওরফে ডবল্ল্যা। তিনিও এলাকায় ফিরেছেন। আর বুধবার বিকেলে নিজ ঘরে ফিরেছেন রনি আক্তারও। স্থানীয় লোকজন শুনেছে, টাকার বিনিময়ে অভিযানকারী বাহিনীর কাছ থেকে রনি আক্তারকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। তবে রনির পরিবার এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেনি। আটক কিংবা ফিরে আসার কোনো তথ্যও জানায়নি।

ফিরে আসা রনি আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এম এমরান ভূঁইয়া জানান, রনি আক্তার বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কিন্তু বাড়ি থেকে কাপড় নিয়ে পুনরায় বেরিয়ে গেছেন। ফলে গতকাল তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁকে পাওয়া গেলে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানা যাবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আলমগীর প্রকাশ ডবল্ল্যাকেও গ্রেপ্তারের জন্য খোঁজা হচ্ছে। সে তালিকাভুক্ত ইয়াবা পাচারকারী। ’

প্রসঙ্গত, ৯ অক্টোবরের পর আনোয়ারায় গোয়েন্দা পুলিশের নামে একটি দল ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও বস্তাভর্তি টাকা জব্দ করে বলে স্থানীয় লোকজন জানায়। কিন্তু ঘটনার ৯ দিন পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ইউনিট এ ধরনের অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেনি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রামের পুলিশ, র‌্যাব-৭ এবং কোস্ট গার্ডও এ ধরনের অভিযান চালায়নি বলে নিশ্চিত করে।


মন্তব্য