kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বরিশাল বিভাগের ২২ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষক নেই ১৩টিতেই

আজিম হোসেন, বরিশাল   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বরিশাল বিভাগের ২২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৩টিই চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া। সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৩০টি পদও শূন্য।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই এসব পদ শূন্য। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বেশ কয়েকবার; কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। ’

বিভাগের পটুয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র হালদার ২০১৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হন। তখন থেকে বিদ্যালয়ের দুটি সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদে আর কেউ নেই। কারণ একটি পদ ২০১১ সাল থেকেই খালি ছিল।

একই অবস্থা বরগুনা জিলা স্কুল ও বরগুনা গার্লস স্কুলের। এ দুটি বিদ্যালয়ে চারজন সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয় দুটিতে সহকারী প্রধান শিক্ষকের চারটি পদের মধ্যে দুটি পদে শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু ওই বছর বরগুনা জিলা স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাসিনা বেগমকে এবং বরগুনা গার্লস স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহমেদকে প্রধান শিক্ষক করার পর চারটি পদে আর কোনো শিক্ষক নেই।

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বিভাগে সরকারি বিদ্যালয় রয়েছে মোট ২২টি। এর মধ্যে ছয় জেলা শহরে রয়েছে ১২টি এবং বাকি ১০টি উপজেলা শহরে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮টিতে সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৩০টি পদ রয়েছে। বাকি চারটিতে এ পদ সৃষ্টি হয়নি। এ বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, কাউখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বরিশালের রুপাতলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউনিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

জেলা শহরে থাকা ১২টি সরকারি বিদ্যালয় হচ্ছে বরিশাল জিলা স্কুল, বরিশাল গার্লস স্কুল, ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বরগুনা জিলা স্কুল, বরগুনা গার্লস স্কুল, পটুয়াখালী সরকারি জুবলী উচ্চ বিদ্যালয়, পটুয়াখালী গার্লস স্কুল, পিরোজপুর বয়েজ স্কুল, পিরোজপুর গার্লস স্কুল, ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে ১২টি প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ২৪টি সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে পিরোজপুর গালর্স, ঝালকাঠি হরচন্দ্র ও পটুয়াখালী জুবলী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অন্য বিদ্যালয়গুলোর কোনোটিতেই সহকারী শিক্ষকের পদে শিক্ষক নেই।

ছয় জেলায় ১০টি উপজেলা শহরে সরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলো হচ্ছে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, কাউখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও নাজিরপুর সিরাজুল হক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ভোলার দৌলতখান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, দৌলতখান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফজিলাতুননেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও তজুমদ্দিনের চাঁদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বরিশালের রুপাতলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউনিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। অন্যদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষকের ছয়টি পদ খালি আছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বরিশালে সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট অনেক বেশি। আর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য থাকায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এ পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ না দিলে সংকট বড় আকার ধারণ করবে। ’


মন্তব্য