kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শহীদ হাদিস পার্ক ও লিনিয়ার পার্ক প্রকল্প

অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত শুরু করেছে দুদক

খুলনা অফিস   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) বাস্তবায়িত শহীদ হাদিস পার্ক আধুনিকীকরণ প্রকল্প ও ময়ূর নদীতীরের লিনিয়ার পার্ক প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগগুলো সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে দুদক প্রধান কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।

তারা গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ দুটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে জানিয়েছেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবে।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) শেখ আবদুস সালাম। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান মুফতি। তদন্তে সহায়তা করছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, সহকারী প্রকৌশলী সোলায়মান হোসেন, উপসহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার পাত্র ও শেখ ওয়ালিদ ইবনে হাসান।

সিটি করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, খুলনার ঐতিহ্যবাহী শহীদ হাদিস পার্কটি উন্নয়নের জন্য আট কোটি ৪১ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়সাপেক্ষ প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১১ সালে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলেও প্রকল্প পরিচালক ও করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম খাতা-কলমে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রতিবেদন দেন।

একই অবস্থা ময়ূর নদীতীরে লিনিয়ার পার্ক প্রকল্পের। নগরবাসীর বিনোদনের জন্য ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১৪ একর জায়গা ঘিরে প্রকল্পটি গ্রহণ করে খুলনা সিটি করপোরেশন। পার্কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ২০১৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত মেয়াদে তা হয়নি। অথচ প্রকল্প পরিচালক লিয়াকত আলী খান খাতা-কলমে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে প্রকল্প সমাপ্ত দেখিয়ে প্রতিবেদন জমা দেন।

অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে রিপোর্ট প্রদান নিয়ে সে সময় কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। একপর্যায়ে সিটি করপোরেশন ওই দুই প্রকল্পে বেশ কিছু অর্থ স্থানীয় সরকার বিভাগে ফেরত দিতে বাধ্য হয়, যা দুদক তদন্ত করছে।

প্রতিনিধিদলের প্রধান শেখ আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিষয়টির কারিগরিসহ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছি। কাজগুলো সিডিউল অনুযায়ী হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের প্রতিবেদনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


মন্তব্য