kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢাকা মেডিক্যাল

অ্যাম্বুল্যান্সচাপায় আহত আরো একজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গেটে বেপরোয়া গতির অ্যাম্বুল্যান্সের চাপায় আহত আরো একজন বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর নাম রমজান আলী (৩০)।

তিনি রাজধানীর গুলশানের একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন। তাঁকে হারিয়ে স্বজনরা দিশাহারা হয়ে পড়েছে।  

গত ১৫ অক্টোবরের এই দুর্ঘটনায় এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজনে, যার মধ্যে এক নারী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। দায়ী অ্যাম্বুল্যান্সটির মালিক ও চালককে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। চালকের সহকারী সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. জেসমিন নাহার জানান, গুরুতর জখম হওয়া রমজান আলীকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে তিনি মারা গেছেন।

গতকাল হাসপাতালের মর্গের সামনে রমজানের স্ত্রী সাথী আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘মানুষটা চইলা গেল। আমাদের এখন কী হইব? দুইটা বাচ্চা নিয়া আমি কোথায় দাঁড়ামু?’

সাথী জানান, রমজানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তাঁরা রাজধানীর রায়েরবাগের মেরাজনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। রমজান গুলশানে একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন। দুর্ঘটনার দিন সাথীকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন রমজান। বড় ছেলে সামী (৮) এবার স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবং ছোট ছেলে সাদের বয়স দুই বছর।

এর আগে এই দুর্ঘটনার শিকার চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো গোলেনুর বেগম (২৭), তাঁর সাত বছরের সন্তান মোহাম্মদ সাকিব, অজ্ঞাতপরিচয় এক ভিক্ষুক (৪৫) ও আমেনা বেগম সূর্যি। নিহত সূর্যি ছিলেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অ্যাম্বুল্যান্সচাপায় রমজান ছাড়াও পথচারী আফজাল ও ডালিয়া আক্তার এবং রিকশাচালক মাহতাব (৫০) ও বাচ্চু মিয়া (৩০) আহত হন।


মন্তব্য