kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শেষ হলো ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড মেলা ২০১৬

আইসিসিবিতে তারুণ্যের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আইসিসিবিতে তারুণ্যের ঢল

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড মেলার শেষ দিনে ছিল দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬। রাজধানীর কুড়িলসংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এই আয়োজনের সমাপ্তি দিনে গতকাল শুক্রবার তথ্য-প্রযুক্তির অগ্রগতি দেখতে ঢল নেমেছিল তারুণ্যের।

মা-বাবার হাত ধরে ভিড় জমিয়েছে ছোট ছেলেমেয়েরাও। পরিচিত হয়েছে মেলায় উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রযুক্তির সঙ্গে।

মেলার শেষ দিনে গতকাল সকাল থেকেই হাজারো মানুষের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে আইসিসিবি। সব শ্রেণির ও বয়সের দর্শনার্থীর আগমন ঘটে মেলায়। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে তাদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। মিরপুর থেকে মেলায় আসা এক দম্পতি বলেন, ‘বিশ্ব এখন প্রযুক্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই সন্তানকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে মেলায় আসা। সন্তানের পাশাপাশি আমরাও মেলায় এসে তথ্য-প্রযুক্তির অনেক কিছু একসঙ্গে জানতে পারছি। ’

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। মেলার তিন দিনই মন্ত্রণালয়গুলোর পক্ষ থেকে স্টলগুলোতে লিফলেট বিলি করা হয়েছে। আইটি সেক্টরের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া সংক্রান্ত সরকারের ঘোষণার বাস্তবায়ন করতেই মূলত মন্ত্রণালয়গুলোর এমন উদ্যোগ। মন্ত্রণালয়গুলো ছিল ই-গভর্ন্যান্স এক্সপোতে। অন্যগুলো হলো বেসিস সফট এক্সপো, মোবাইল ইনোভেশন এক্সপো এবং ই-কমার্স এক্সপো।

ডিজিটাল বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কতটুকু এগিয়েছে তার প্রতিচ্ছবি জানা গেছে মেলার ই-গভর্ন্যান্স এক্সপোতে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখানে নিজেদের সেবা প্রদর্শন করেছে। মেলায় আগত তরুণ মফিজুল ইসলাম দেখছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম। অনলাইনে জিডি করাসহ পুলিশের বিভিন্ন সেবা প্রদানের বিষয়টি জেনে খানিকটা অবাক তিনি। তাঁর মতো অনেকেই অনলাইনে সরকারি দপ্তরের সেবাপ্রাপ্তির কথা মেলায় এসেই প্রথমবারের মতো জানতে পেরেছেন।

তা ছাড়া স্মার্টফোনে ব্যবহার উপযোগী সফটওয়্যার ও গেম তৈরি করে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এই খাতের একটি সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছে। সরকার শিক্ষা পদ্ধতি ও ই-সেবা সম্প্রসারণে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে মোবাইল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। বেসরকারি খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে এই তথ্য-প্রযুক্তি। গড়ে উঠেছে ই-কমার্স ও অনলাইন শপিংসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্যসেবার প্ল্যাটফর্ম। এসব সেবার বিপরীতে পাওনা পরিশোধের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস বা মোবাইল ব্যাংকিং।

গতকাল বন্ধুদের সঙ্গে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে এসেছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এখানে এসেছি। ’ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া হক কম্পিউটার বিজ্ঞানে অনার্স করছেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই তাঁর। তিনি বলেন, ‘এত বড় পরিসরের ডিজিটাল মেলায় কখনো যাওয়ার সুযোগ হয়নি। এখানে আসার পর সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন যে সত্যি হতে যাচ্ছে তা নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি। ’ মেলায় আসা বিজ্ঞানের একজন তরুণ শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান অনেক কাজে দেবে। ’

গতকাল সমাপনী দিনে মেলায় ব্যাপক দর্শনার্থীর সমাগমে স্টলগুলোর উদ্যোক্তাদের মুখে ছিল সন্তুষ্টির ছাপ। কারণ এখানে সরাসরি প্রোডাক্ট বিক্রি তেমন একটা না হলেও মার্কেটিংয়ের ব্যাপক সুযোগ ছিল। এসএসএল ওয়্যারলেসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কাজী আহসানুল কবির বলেন, ‘মেলায় প্রচুর সাড়া পাওয়া গেছে। নানামুখী চেষ্টায় যে প্রচার পাওয়া যেত না মেলায় এসে তার বহুগুণ পেয়েছি। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আইসিসিবিতে গত বুধবার শুরু হওয়া ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের আয়োজক ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। সহ-আয়োজক ছিল বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস। মেলায় সরকারের ৪০টি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও অংশ নেয়। নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপের জন্য ছিল ৩৮টি স্টল। সব মিলিয়ে ৩৫০টি স্টল ছিল এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে।


মন্তব্য