kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ১৭ জনের কারাদণ্ড

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ১৭ জনের কারাদণ্ড

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ১৩ জনকে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রত্যেককে দুই বছর করে বিনা শ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার পরীক্ষা চলার সময়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় জালিয়াতির হোতাদের নাম বেরিয়ে এলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি শিক্ষক ও পরীক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলেও সে ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আটককৃতরা হলো আল ইমরান (ভর্তি রোল নম্বর ৬১০৬৩১), সাদিয়া ইসলাম নওরিন (১৫৩০৮৫), আকাশ খন্দকার (৬৬৬২০৫), ইমরান খান শোভন (৬৩৭২৪৪), সাদিক আহমেদ (৬৫১৮০৭), অবনী রায় (৬৮৮১৫০), জাহিদ হাসান (৬৫২৭৫০), শাহ সাদমান ইয়াসার (৬৭৩৫৮৪), মাহমুদুল হাসান তারেক (৬৩০৯০৯), আল আমিন (৬৯৩৬৩৪), সঞ্চিতা রানী দাস (৬৬০২২২), ইশতিয়াক আহমেদ (৬৫৮৫৫৬) ও জুলকার নাঈন (৬৫৮৭৫৭)।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আটক ব্যক্তিরা হলেন বিসিএস কনফিডেন্স কোচিং সেন্টারের শাখা ব্যবস্থাপক মফিজুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. সাইফুদ্দিন লিখন এবং দুই ভর্তি পরীক্ষার্থী মো. মোস্তাক আহমেদ ও মো. আব্দুর রহমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জাতিয়াতির ঘটনায় আটককৃতরা প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে চার-পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়। এর বিনিময়ে পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র, মার্কশিট ও সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এম আমজাদ আলী জানান, আটককৃতরা জানিয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা। তবে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খোঁজ নিয়ে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না।

আটক জুলকার নাঈন নামে এক ভর্তীচ্ছু কালের কণ্ঠকে বলে, ‘আমরা কয়েকজন মিলে চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম। অন্য বন্ধুদের কোনো সমস্যা হয়নি। উত্তর সরবরাহের পর পরীক্ষায় ভর্তির সুযোগ পেলে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পাঁচ লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছিল। ২৩৩ নম্বর কক্ষের পরিদর্শক আমার রোল নম্বর জিজ্ঞাসা করেন। বলার পর তিনি জানতে চান মোবাইল ফোন আছে কি না। মোবাইল দেখে তিনি কিছুই বলেননি। কাছেই রাখতে বলেছিলেন। জালিয়াতচক্রের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার সময় এক শিক্ষক সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছিলেন। এই জন্যই ওই শিক্ষক কিছুই বলেননি, কিন্তু অন্যজন এসে আটক করেছেন। ’

সঞ্চিতা রানী দাস নামের আরেক ভর্তীচ্ছু বলে, ‘আমার পিতার সঙ্গে জালিয়াতচক্রের সাড়ে তিন লাখ টাকায় চুক্তি হয়। চুক্তি ছিল পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছবি পাঠাতে হবে। সেই হিসেবে প্রশ্নপত্র পেয়েই চক্রের কাছে প্রশ্নের ছবি পাঠাই। ২০ মিনিট পরেই খুদে বার্তায় উত্তর আসে। কক্ষ পরিদর্শকের সঙ্গে জালিয়াতচক্রের যোগাযোগ ছিল। ওই শিক্ষক আমাকে উত্তর করতে দেখলেও কিছু বলেননি। অন্য শিক্ষক আমাকে আটক করেন। ’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, জালিয়াতি রোধে কর্তৃপক্ষের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। জালিয়াতি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু রাখা হয়েছে। প্রশ্নপত্রেও নানামুখী পরিবর্তন এসেছে।


মন্তব্য