kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন ঘিরে অনুষ্ঠানস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ পুরো রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তায় নিয়োজিত করা হয়েছে ১০ হাজার পুলিশ ও পাঁচ হাজার র‌্যাব সদস্যকে।

এ ছাড়া সাদা পোশাকে নিয়োজিত আছেন আরো কয়েক শ গোয়েন্দা সদস্য। সম্মেলনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে পুলিশ। আজ রবিবার সকাল ৭টা থেকে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে ডাইভারশন বা বিকল্প তৈরি করা হয়েছে। ভিআইপি ছাড়া অন্য কারো গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না সম্মেলনস্থলে। গতকাল শুক্রবার থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাধারণ দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল রবিবার পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে সম্মেলন কেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখতে যান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের স্থান ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ঘুরে দেখে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইউনিফর্ম পরা পুলিশসহ সাদা পোশাকের পুলিশও সম্মেলনস্থলে দায়িত্ব পালন করবে। এখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন মোট ১০ হাজার পুলিশ সদস্য। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘এখানে বিদেশি মেহমানদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। ১৫টি দেশের ৫২ জন বিদেশি মেহমান আসবেন। তাঁরা এখানে থাকবেন। কে, কোন পথ দিয়ে প্রবেশ করবেন, তার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে, পুলিশের নোটিফিকেশনের মাধ্যমেও জানানো হয়েছে, প্রবেশ নিয়ে যাতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি না হয়। ’

ওই সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ ও মত্স্য ভবন এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। তিনটি কন্ট্রোল রুম থেকে তা মনিটর করা হবে। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, সম্মেলন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সোয়াত, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা করা হবে। কারো গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে। সম্মেলনস্থলে সাতটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সার্চ করে প্রবেশ করানো হবে। আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, সম্মেলনের কাউন্সিলর ও অতিথিদের নির্বিঘ্নে আসা-যাওয়ার জন্য সম্মেলনের দুই দিন শনি ও রবিবার (২২ ও ২৩ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগসহ আশপাশের বেশ কিছু সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ জন্য বেশ কিছু সড়কে ডাইভারশন করা হবে।

ওই দিন আলাদা বিফ্রিংয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছিলেন, সম্মেলনের নিরাপত্তায় পাঁচ হাজার র‌্যাব সদস্য কাজ করছেন। বড় ধরনের গণজমায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থাই গ্রহণ করেছেন তাঁরা।

যেসব সড়কে নিয়ন্ত্রিত হবে যানবাহন : ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত বুধবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্মেলনের দুই দিন ২২-২৩ অক্টোবর সকাল ৭টা থেকে বিজয় সরণি হয়ে ভিআইপি রোডের সব গাড়ি রূপসী বাংলা-শাহবাগ-টিএসসি হয়ে ডান দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ঢুকবে। প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না পৌঁছানো পর্যন্ত ভিআইপি রোডে অন্য কোনো গাড়ি ঢুকবে না। উত্তরা হয়ে আসা গাড়ি মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে মহাখালী টার্মিনাল-মগবাজার-কাকরাইল চার্চ-রাজমনি ক্রসিং-নাইটিংগেল-ইউবিএল-জিরো পয়েন্ট-আবদুল গণি রোড-হাইকোর্ট ক্রসিং-দোয়েল চত্বর দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকবে। মাওয়া থেকে আসা গাড়িগুলো সদরঘাট-বাবুবাজার-গুলিস্তান-জিরো পয়েন্ট-আবদুল গণি রোড-পুরাতন হাইকোর্ট ক্রসিং-দোয়েল চত্বর-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে গন্তব্যস্থলে যাবে। চট্টগ্রাম বিভাগ, সিলেট বিভাগ, যাত্রাবাড়ী ও কাঁচপুর থেকে আসা গাড়ি মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার-চানখাঁরপুল-দোয়েল চত্বর-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে গন্তব্যস্থলে যাবে। প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করার পর ভিআইপি রোড (হেয়ার রোড-রূপসী বাংলা-সোনারগাঁও-বিজয় সরণি) স্বাভাবিক থাকবে। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনস্থল ত্যাগ করার সম্ভাব্য দুই ঘণ্টা আগে থেকে মত্স্য ভবন, কাকরাইল চার্চ থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত রাস্তায় ডাইভারশন চলবে। ওই সময় কদম ফোয়ারা দিয়ে গাড়ি ইউবিএল-নাইটিংগেল-কাকরাইল চার্চ-মগবাজার দিয়ে মহাখালী যেতে পারবে। গাবতলী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি থেকে আসা গাড়িগুলো মানিক মিয়া এভিনিউ ও মিরপুর রোড ব্যবহার করে রাসেল স্কয়ার-সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং-নিউ মার্কেট ক্রসিং-নীলক্ষেত ক্রসিং-আজিমপুর ক্রসিং-পলাশী ক্রসিং দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকবে।

সকাল ৭টা থেকে ডাইভারশন শুরু : সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্মেলন উপলক্ষে কিছু সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ২২ ও ২৩ অক্টোবর সকাল ৭টা থেকে কিছু পয়েন্টে ডাইভারশনের মাধ্যমে যান চলাচল করবে। ওই সময় মানিক মিয়া এভিনিউ-ফার্মগেট অভিমুখে কোনো গাড়ি আসবে না এবং রাসেল স্কয়ার-পান্থপথ অভিমুখে কোনো গাড়ি যাবে না। সব গাড়ি সায়েন্স ল্যাবরেটরি-নিউ মার্কেট-আজিমপুর-পলাশী-জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পার্কিংয়ে প্রবেশ করবে অথবা নিউ মার্কেট-নীলক্ষেত-ফুলার রোড দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকবে। কাঁটাবন থেকে কোনো গাড়ি শাহবাগের দিকে আসবে না। কাঁটাবন থেকে ডানে মোড় নিয়ে নীলক্ষেত ক্রসিং হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকবে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসির দিকে কোনো গাড়ি ঢুকবে না। শাহবাগ থেকে মত্স্য ভবন এবং মত্স্য ভবন থেকে শাহবাগ অভিমুখে কোনো গাড়ি যাবে না। হাইকোর্ট ক্রসিং থেকে দোয়েল চত্বরে গাড়ি ঢুকতে পারবে, কিন্তু দোয়েল চত্বর থেকে হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে গাড়ি যাবে না। অন্যদিকে ইউবিএল ক্রসিং থেকে কোনো গাড়ি কদম ফোয়ারার দিকে যাবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনের রাস্তা উভয় দিকে বন্ধ থাকবে। কাকরাইল চার্চ থেকে কাকরাইল মসজিদ অভিমুখে কোনো গাড়ি যাবে না। কার্পেট গলি, পরীবাগ গ্যাপ, শিল্পকলা একাডেমির গ্যাপ, মিন্টো রোড ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব মোড় বন্ধ থাকবে এবং এসব স্থান থেকে ভিআইপি রোডে কোনো গাড়ি ঢুকবে না।


মন্তব্য