kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফলাফলে এক নম্বর বাড়বে ছয় হাজার টাকায়!

শরীফুল আলম সুমন   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফলাফলে এক নম্বর বাড়বে ছয় হাজার টাকায়!

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণায় নেমেছে একটি চক্র। এই চক্রের সদস্যদের বেশির ভাগই বোর্ডে কর্মরত কর্মচারী।

তাঁরা ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিচ্ছেন। এক নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে ছয় হাজার টাকা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল না এলেও তাঁরা আর টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। টাকা ফেরত চাইতে গেলে মিলছে হুমকি-ধমকি।

গত ২২ আগস্ট ফল পুনর্নিরীক্ষণের খবর জানতে ঢাকা বোর্ডে যান একজন অভিভাবক। তিনি বিস্তারিত জেনে আসার পর গেটের কাছে মো. মাসুদুর রশীদ খান (মাসুদ) নামের একজন কর্মচারী ওই অভিভাবককে ডাকেন এবং তিনি নম্বর বাড়িয়ে দিতে পারবেন বলে জানান। প্রতি নম্বরের জন্য তিনি  ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। শেষে ছয় হাজার টাকায় রফা হয়। এরপর ওই অভিভাবক বিকাশ নম্বরে (০১৮১৯০৩৮৪২৭) ছয় হাজার টাকা পাঠান।

নাম প্রকাশ না করে ওই অভিভাবক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাস করেছে। সে জিপিএ ৪.৬৭ পেয়েছে। কিন্তু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পেয়েছে ৭৯ নম্বর। তাই আমি পুনর্নিরীক্ষা বিষয়ে খোঁজখবর জানতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে যাই। সেখানে মাসুদ নামের একজন কর্মচারী আমাকে পাঁচতলায় নিয়ে যান। তিনি ছয় হাজার টাকায় এক নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন। আমিও না বুঝে বিকাশের মাধ্যমে তাঁকে ছয় হাজার টাকা দিই। কিন্তু ফল পুনর্নিরীক্ষায় দেখা যায় আমার ছেলের নম্বর বাড়েনি। ’

ওই অভিভাবক আরো বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে টাকা ফেরত দেবেন বলে জানান। কিন্তু কয়েক দিনেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় আমি বোর্ডে গিয়ে ওই কর্মচারীর সঙ্গে দেখা করি। তিনি সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর আমাকে টাকা ফেরত দেবেন বলে জানান। এর পর থেকে তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। চেষ্টা চালাতে চালাতে একপর্যায়ে তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়। এবার তিনি আমাকে বলেন, টাকা ফেরত নেওয়া লাগবে না। আমি আপনার ছেলের এক নম্বর কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়িয়ে দেব। কিন্তু আমি নম্বর বাড়ানো লাগবে না জানালে তিনি রেগে যান। আমি আবার যোগাযোগ করলে ভালো হবে না বলে হুমকি দেন। ’

তবে কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে মো. মাসুদুর রশীদ মাসুদের সঙ্গে একাধিকবার (০১৯১৮৯৩৬৮৬৫) যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। তাঁর একটি ভিজিটিং কার্ডও আছে। সেখানে দুই পিঠে বাংলা ও ইংরেজিতে বিস্তারিত লেখা রয়েছে। কার্ডে তাঁর পদবি অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর। এ ছাড়া লেখা রয়েছে এমএ অধ্যয়নরত এবং নাটক ও সংগীতশিল্পী।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী শহীদুলের নামে রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি কলেজে ফোন দেওয়া হয়। জানানো হয়, এসএসসিতে আরো ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর পাসের নতুন ফল দেওয়া হবে। আপনারা যদি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে চান তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ফোন নম্বর : ০১৭০৮৮৮৩৫৯৮। কলেজের অধ্যক্ষরা ব্যাপারটি বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর থেকে ওই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফল পুনর্নিরীক্ষণে একটি নম্বরও কারো পক্ষে বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। আমরা প্রতারণার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ’ 


মন্তব্য